ভারতকে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছেন তিনি। তিলক বর্মা নেমেছিলেন যখন, নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৮১ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ভারতের পাঁচ উইকেট চলে গিয়েছিল। আস্কিং রেট ততক্ষণে চড়চড়িয়ে মগডালে। বারোর আশেপাশে। রান বাকি ছিল একশো প্লাস। কিন্তু কেন তাঁর নাম বহু আগে অল ফর্ম্যাট ক্রিকেটার হিসেবে বোর্ডমহলে সুপারিশ করেছিলেন রোহিত শর্মা, তা হাতেগরম বুঝিয়ে দিলেন তিলক। ২৬ বলে অপরাজিত ৫১। ছ’টা বাউন্ডারির সঙ্গে একটা ওভার বাউন্ডারি। স্ট্রাইক রেট ১৯৬.১৫। সংক্ষেপে ভারতের মহাচাপের ম্যাচে এটাই শনিবাসরীয় তিলক বর্মা!
অক্ষর প্যাটেল আউট হওয়ার পর ক্রিজে যাচ্ছিলেন যে সময়, কী চলছিল তিলকের মনে? পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে তিলক বলে যান, “আমি শুধু চেষ্টা করছিলাম, শেষ পর্যন্ত খেলার। এদিনের ম্যাচের আগে আমি গৌতম স্যর (ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর) আর কোটাক স্যরের (সহকারি কোচ সীতাংশু কোটাক) সঙ্গে কথা বলছিলাম। ওঁরা আমাকে বলেন যে, গোটা দেশ তোমার উপর ভরসা করে। আস্থা রাখে। তুমি যদি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারো, ক্রিজে থাকতে পারো, আমরা ম্যাচ জিতে যাব। দিন শেষে আমি সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে পেরেছি। লোকে যে ভরসা আমার উপর রাখে তা করে দেখাতে পেরেছি। সেটা ভাবলে নিজেকে নিয়ে গর্ব হচ্ছে।” সঙ্গে যোগ করেন, “আমি ক্রিজে নেমে সেটাই নমনকে (নমন ধীর) বলি। ওকে বলি যে, আমি খেলাটাকে যতটা সম্ভব শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাইছি। তাই বাদবাকি দিনের মতো তাড়াহুড়ো না করলেও চলবে। কারণ, শেষ পর্যন্ত আমরা থাকব। আমরা ঠিক করি, স্পিনারদের বিরুদ্ধে যত বেশি সম্ভব দু’রান নেব। উইকেটের মধ্যে দৌড়োব। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে মিচেল স্যান্টনারের শেষ ওভারে নমন আউট হয়ে গেল। নইলে আমরা ১৮ ওভারে খেলা শেষ করে দিতাম।”
দেখতে গেলে, ভারতকে এ দিন শেষ দিকে বৈতরণী পার করিয়ে দেন দুই হায়দরাবাদি। তিলক এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি। দ্বিতীয় জন, ১৩ বলে অপরাজিত ২৬ থেকে যান। যা শুনে হাসতে-হাসতে তিলক বলে দেন, “ব্যাপারটা পরে ভালোই হল। আমরা দুই হায়দরাবাদি মিলে খেলাটাকে ফিনিশ করে দিলাম। পরের দিকে পেসারদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম আমরা। কারণ, এত বড় মাঠ পার করতে বলে পেস প্রয়োজন হয়। শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেদের ট্রেডমার্ক স্টাইলে খেলাটা শেষ করে দিতে পেরেছি। দেশকে জেতাতে পেরেছি। এটাই আনন্দের।”
তিলকের অসামান্য ব্যাটিংয়ে তৃপ্ত ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে এসে তিনি আবার বলে গেলেন, “আমরা প্রমাণ করে দিলাম, আমাদের দলের প্রত্যেকেই ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। পরপর আজ উইকেট চলে গিয়েছিল আমাদের। মনে হচ্ছিল, খেলাটা বোধহয় হাত থেকে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু নীতীশ আর তিলক অসামান্য দৃঢ়তা দেখিয়ে, ম্যাচ বের করে নিল। ধীরের ইনিংসের কথাও এখানে আলাদা করে আমি বলব। ওর বোলিংও অসামান্য। তবে একটা বিষয়ে ভুল করেছি আমরা। আমাদের উচিত ছিল, ফাঁকফোঁকর খুঁজে বাউন্ডারি বের করে নেওয়া। সেটা করতে পারলে, আমাদের ইনিংস দ্রুতগতিতে এগোতে পারত।” প্রথম ম্যাচে ২২৫ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ম্যাচেও একইভাবে রান তাড়া করে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া। সিরিজের পরের ম্যাচ জিততে পারলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলবেন শ্রেয়সরা।
