আবাসন সংকটের প্রতিবাদে গড়ে তোলা বিক্ষোভকারীদের তাঁবু সরিয়ে দিয়েছে পর্তুগালের পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে রাজধানী লিসবন ও পোর্তো শহরের দুটি কেন্দ্রীয় চত্বর থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিসবনের রোসিও চত্বরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে প্রায় ২০০টি তাঁবু স্থাপন করা হয়েছিল। অন্যদিকে পোর্তোর ডম জোয়াও প্রথম চত্বরে প্রায় ১০ দিন ধরে অবস্থান চলছিল।
মঙ্গলবার সকাল ৬টার কিছু আগে পুলিশ দুই শহরে একযোগে অভিযান শুরু করে। এর আগে বিক্ষোভকারীদের অবস্থানকে অবৈধ বলে সতর্ক করা হয়েছিল। পোর্তোতে আন্দোলনকারীরা নিজেরাই তাঁবু সরিয়ে নেন। তবে লিসবনের রোসিও চত্বর থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
লিসবনের বিক্ষোভ শিবিরের মুখপাত্র কার্লা ভালাদাও পুলিশের অভিযানকে ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক’ বলে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টায় আবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন তিনি।
তবে জননিরাপত্তা পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সার্জিও সোয়ারেস বলেন, উচ্ছেদ অভিযান শান্তিপূর্ণ, আনুপাতিক ও যথাযথভাবে পরিচালিত হয়েছে। এ সময় পুলিশ কোনো হামলা চালায়নি।
স্বেচ্ছায় এলাকা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোয় ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজন সামান্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ইউরোপের অন্যতম গুরুতর আবাসন ব্যয়সংকটে রয়েছে পর্তুগাল। ২০১৭ সালের পর দেশটিতে বাড়ি কেনার দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। নতুন চুক্তিতে বাড়িভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বড় শহরগুলোতে এ সংকট সবচেয়ে তীব্র। অতিরিক্ত পর্যটক এবং বিদেশি ডিজিটাল যাযাবরদের আগমন নিয়েও সেখানে অসন্তোষ রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা মধ্য-ডানপন্থি সরকারের একটি প্রস্তাবিত বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিলটি কার্যকর হলে বাড়ি থেকে ভাড়াটেদের উচ্ছেদ সহজ হবে এবং নতুন ভাড়ার চুক্তিতে ভাড়া বৃদ্ধির সীমাও উঠে যাবে। পার্লামেন্টে বিলটি প্রাথমিক পাঠে অনুমোদন পেয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
