ফরিদপুরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বাকীগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের হাফেজডাঙ্গী গ্রামে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও অবদান তুলে ধরে আগামী বছরের মধ্যে মাদ্রাসাটি জাতীয়করণের দাবি জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ফজলুল হামিদ তামিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান, পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম আব্দুর রাজ্জাক, সদস্যসচিব ও অম্বিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের দেখা-সাক্ষাৎ, স্মৃতিচারণ ও পারস্পরিক ভাববিনিময়ের মধ্য দিয়ে মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বক্তারা মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বাকীগঞ্জ ইসলামিয়া মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু শিক্ষার্থী ও পরিবারের স্মৃতি, আবেগ এবং শিক্ষাজীবনের ইতিহাস। শতবর্ষী এ প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও অবদান বিবেচনায় নিয়ে এর উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তারা আগামী বছরের মধ্যে মাদ্রাসাটি জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তাদের মতে, জাতীয়করণ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ দাবির বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
উল্লেখ্য, বাকীগঞ্জ ইসলামিয়া মাদ্রাসা ফরিদপুর অঞ্চলের একটি প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এ পুনর্মিলনী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
