শরতের কাশফুল, শিউলির সুবাস আর ঢাকের আগমনী সুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ১৮টি পূজামণ্ডপ। চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১৮টি পূজামণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপের সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় একটি পূজামণ্ডপ বেড়েছে।
বাংলার অন্যতম বৃহৎ সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব, যা ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর আগে ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। দুর্গাপূজার দিনগুলোতে প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা, আরতি ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, তাড়াইলের সাতটি ইউনিয়নে এবার মোট ১৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৭টি।
তালিকা অনুযায়ী, তালজাঙ্গা ইউনিয়নে ১টি, রাউতি ইউনিয়নে ২টি, ধলা ইউনিয়নে ৩টি, জাওয়ার ইউনিয়নে ১টি, দামিহা ইউনিয়নে ৪টি, দিগদাইড় ইউনিয়নে ৩টি এবং তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নে ৪টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
দুর্গাপূজার দিনপঞ্জি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৭ অক্টোবর সপ্তমী, ১৮ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর মহানবমী এবং ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।
বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এদিন প্রতিমা বিসর্জনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় রীতির মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। পূজাকে ঘিরে ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও তৈরি হবে উৎসবের আবহ।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপ নিয়মিত পরিদর্শন ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস আদেশে পরিদর্শন শেষে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে, পূজামণ্ডপগুলোতে প্রতিমা ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। ঢাকের শব্দ, আলোকসজ্জা ও পূজার নানা আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে তাড়াইলে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হবে।
শরতের কাশফুলের শুভ্রতা, ঢাকের কাঠির ছন্দ আর দেবী বন্দনার সুরে তাড়াইল এখন দুর্গোৎসবের অপেক্ষায়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এ উৎসব সবার মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
