আকাশপথ বন্ধ, সৌদি থেকে দুই বাংলাদেশির মরদেহ আনতে বিলম্ব
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সৌদি আরবে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিচয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের একজনের বাড়ি বগুড়ায় এবং অন্যজনের বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁদের পেশাগত পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, একজন সৌদি আরবে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যজন ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে গিয়েছিলেন।
এর আগে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন পররাষ্ট্র সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানকালে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছ থেকে তখনো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পায়নি বাংলাদেশ। ঘটনাটিকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও উল্লেখ করেন।
সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গাল্ফ নিউজ জানায়, ঘটনার প্রেক্ষাপট, মসজিদের পবিত্রতা এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত এ সাজা দেন।
তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি সরকারের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এবং দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।
