
প্রতীকী ছবি।ছবি সৌজন্যে: AI
Published on
:
3 min read
একসময় Counter-Intelligence-এর মূল লক্ষ্য ছিল—শত্রু দেশের গুপ্তচর কে, কোথায়, কী তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তার নেটওয়ার্ক কত দূর ছড়িয়েছে, তা খুঁজে বার করা। তার জন্য ছিল human source, surveillance, wiretap, document এবং দীর্ঘদিনের ফিল্ড ইনভেস্টিগেশন।
এখন সেই পুরোনো খেলায় ঢুকে পড়েছে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (Artificial Intelligence)। ফলে গুপ্তচর ধরার লড়াই শুধু মানুষের সঙ্গে মানুষের নয়—অ্যালগরিদমের সঙ্গে অ্যালগরিদমেরও।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হয়েছে তথ্যের পরিমাণে। একজন অ্যানালিস্ট যেখানে হাজার হাজার নথি বা যোগাযোগ পরীক্ষা করতে পারেন, AI সেখানে বিপুল ডেটার মধ্যে pattern, anomaly এবং অস্বাভাবিক যোগাযোগের সম্পর্ক খুঁজতে পারে। FBI-ও জানিয়েছে, তারা AI ব্যবহার করে বিপুল investigation data triage, video analytics, voice-sample processing ইত্যাদি করছে। তবে AI থেকে পাওয়া তথ্যকে investigative lead হিসেবেই দেখা হয় এবং substantive action-এর আগে human expert-এর যাচাই প্রয়োজন।
গুপ্তচর ধরার বদলে এখন ‘নেটওয়ার্ক’ ধরার চেষ্টা
Counter-Intelligence-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভবত এখানেই। আগে সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে যেত। এখন লক্ষ্য হচ্ছে তাঁর ডিজিটাল নেটওয়ার্ক।
কার সঙ্গে যোগাযোগ, কোন অ্যাকাউন্ট সঙ্গে বারবার interaction, কোন লোকেশনে যাতায়াত, কোন আর্থিক লেনদেন বা অনলাইন অ্যাক্টিভিটি একই pattern অনুসরণ করছে— এই বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলি Data Analytics একসঙ্গে এনে একটি network map তৈরি করতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি নয়, গোটা ecosystem-টি তদন্তের আওতায় আসে।
Deepfake: গুপ্তচরের নতুন অস্ত্র
AI-এর সবচেয়ে বড় counter-intelligence বিপদগুলির একটি হলো synthetic media। কোনও রাষ্ট্রের নেতা, সামরিক কর্মকর্তা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা মুখ নকল করে তৈরি করা যায় এমন অডিয়ো-ভিডিয়ো, যা প্রথম দর্শনে সত্যি বলে মনে হতে পারে।
GCHQ প্রকাশ্য নথিতে সতর্ক করেছে যে hostile actors AI ব্যবহার করে ডিপফেক অডিয়ো ও ভিডিয়ো তৈরি করে public debate প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে AI-কে ব্যবহার করা যায় সেই deepfake শনাক্ত করতে, trusted source-এর সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে fact-check করতে এবং bot network চিহ্নিত করতে। অর্থাৎ একই প্রযুক্তি অস্ত্রও, প্রতিরক্ষাও।
২০২৪: আমেরিকার নির্বাচন ঘিরে বাস্তব পরীক্ষা
২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময় এই পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র দেখা যায়। Microsoft Threat Analysis Center রাশিয়া-সংযুক্ত বিভিন্ন influence operation-এর মধ্যে AI-generated বা AI-enhanced content শনাক্ত করেছিল। একটি staged video-তে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে ঘিরে মিথ্যা দাবি ছড়ানো হয়েছিল। ভিডিয়োটি কয়েক মিলিয়ন impression পেয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে Harris campaign-কে লক্ষ্য করেও AI-enhanced ও fabricated video ছড়ানোর ঘটনা Microsoft নথিবদ্ধ করে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তারা উল্লেখ করেছে— সব ক্ষেত্রে sophisticated AI deepfake-ই সবচেয়ে কার্যকর ছিল না। পুরনো কৌশল যেমন staged video, deceptive editing, spoofed websites— অনেক সময় একই বা বেশি reach পেয়েছে।
এটাই Counter-Intelligence-এর নতুন শিক্ষা: শত্রু AI ব্যবহার করছে বলেই প্রতিটি তথ্য AI-generated, এমন ধরে নেওয়াও বিপজ্জনক।
Paris Olympics: AI-র সঙ্গে পুরোনো propaganda-র মিশেল
২০২৪ Paris Olympics-কে ঘিরেও রাশিয়া-সংযুক্ত influence actors-এর কর্মকাণ্ড Microsoft বিশ্লেষণ করেছিল। ‘Olympics Has Fallen’ নামে একটি ভুয়ো documentary-তে AI-generated audio ব্যবহার করে অভিনেতা Tom Cruise-এর কণ্ঠস্বরের অনুকরণ করা হয়েছিল। Netflix-এর branding এবং ভুয়ো media reviews-ও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এখানে AI একা কাজ করেনি। AI + social media + fake websites + human amplification— এই চারটি মিলে তৈরি হয়েছিল একটি সম্পূর্ণ influence ecosystem।
FBI-এর নতুন Counter-Intelligence model
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে FBI-ও Counter-Intelligence, Cyber, Counterterrorism এবং Criminal Investigative divisions-কে একসঙ্গে কাজ করাচ্ছে Foreign Influence Task Force-এর মাধ্যমে। লক্ষ্য শুধু traditional spy শনাক্ত করা নয়। foreign influence, cyber activity, economic espionage এবং covert networks-কে একই ছবির অংশ হিসেবে দেখা।
AI এখানে একজন ‘ডিজিটাল গোয়েন্দা’-র মতো বিপুল তথ্য দ্রুত ছেঁকে দিতে পারে। কিন্তু FBI স্পষ্ট করেছে— শেষ সিদ্ধান্ত মানুষের। AI-generated lead human expert যাচাই না করা পর্যন্ত সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।
নতুন লড়াইটি তাই দ্বিমুখী
আগামী দিনের Counter-Intelligence-এ একটি অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। একদিকে AI দিয়ে—
- fake identity তৈরি করা যায়
- deepfake বানানো যায়
- disinformation দ্রুত ছড়ানো যায়
- মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করা যায়
- social-media narrative manipulate করা যায়
অন্যদিকে সেই AI দিয়েই—
- bot network শনাক্ত
- deepfake detect
- suspicious communication analyse
- তথ্যের উৎস যাচাই
- এবং বিপুল data থেকে hidden connection খুঁজে বের করা যায়
GCHQ-ও ঠিক এই দ্বিমুখী বাস্তবতার কথা বলেছে— AI যেমন foreign disinformation-এর শক্তি বাড়াতে পারে, তেমনই machine-assisted fact-checking, botnet detection ও malicious network identification-এর শক্তিও বাড়াতে পারে।
Cold War-এর Counter-Intelligence ছিল মূলত মানুষ বনাম মানুষ। Internet যুগে তা হয়েছিল মানুষ বনাম network। আর AI যুগে যুদ্ধটি ক্রমশ হচ্ছে— network বনাম algorithm।
তবে এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ প্রযুক্তি নয়, প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত বিশ্বাস। ভুল data থেকে AI ভুল pattern খুঁজতে পারে। একটি সন্দেহকে সত্যি বলে মনে করাতে পারে। তাই ভবিষ্যতের দক্ষ গোয়েন্দা সংস্থা শুধু সবচেয়ে শক্তিশালী AI-র মালিক হবে না; বরং AI কখন ভুল করতে পারে, সেটিও যে সংস্থা সবচেয়ে ভাল বোঝে, তারাই এগিয়ে থাকবে।
কারণ Counter-Intelligence-এর শেষ প্রশ্নটি এখনও একই— ‘তথ্যটি সত্যি তো?’
