- ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ফেলে যাওয়া রেঞ্চের খালি প্যাকেট দেখে তদন্তে নেমে তারকেশ্বর থানা গ্রেপ্তার করল তিন দুষ্কৃতীকে। ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনার কিনারা করল তারকেশ্বর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম শেখ জামাল উদ্দিন, বাড়ি পোলবা থানার অন্তর্গত আলিনগর। হাসান মোল্লা বাড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা। অপর ধৃত আকাশ বৈদ্য, বাড়ি কল্যাণী।
১৯ সেপ্টেম্বর তারকেশ্বর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী প্রতীপ পালের বাড়ি ফাঁকা ছিল। দরজায় তালা দেওয়া ছিল। সন্ধ্যায় জানালার গ্রিল ভেঙে দুষ্কৃতীরা ঘরে ঢুকে সোনা, রুপো সহ নগদ-টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ জানানো হয়। তদন্তে নামে পুলিশ। বুধবার তারকেশ্বর থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি হেডকোয়ার্টার দেবরাজ ঘোষ। তিনি জানান, ধৃতরা গাড়ি চেপে বিভিন্ন স্টেশন সংলগ্ন বর্ধিষ্ণু এলাকায় চুরি করে চম্পট দিত। বাড়িতে তালা থাকলে পিছন দরজা অথবা জানালা ভেঙে ঢুকত। কাছাকাছি কয়েকটি থানা এলাকায় চুরির খবর আসছিল। প্রত্যেকটি চুরি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার সময় ঘটেছে। চুরির ধরন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও তারকেশ্বরে ফেলে যাওয়া একটি রেঞ্চের প্যাকেট দেখে তদন্ত করতে সুবিধা হয়েছে। চুরির সময় যে রেঞ্চটি ব্যবহার করা হয়, তার প্যাকেট ফেলে যায় দুষ্কৃতীরা। এই ধরনের রেঞ্চ তারকেশ্বর সংলগ্ন এলাকায় কিনতে পাওয়া যায় না। তা থেকেই সন্দেহ হয়েছিল এই দুষ্কৃতীরা তারকেশ্বর থানার বাসিন্দা নয়। তদন্তে নেমে পাণ্ডুয়ার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ গ্রাম সোনা, ৫৪৮ গ্রাম রুপোর গ্লাস ও বাটি, নগদ অর্থ উদ্ধার হয়।
এছাড়া চুরিতে ব্যবহৃত রেঞ্চ, স্ক্রু ড্রাইভার, কাটার সহ বিভিন্ন সামগ্রী, সোনা গলানোর মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। আইফোন সহ মোট পাঁচটি মোবাইল, একটি চার চাকা গাড়ি উদ্ধার হয়েছে। কিছু সোনা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়েছে। সেগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ধৃতদের চন্দননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
