বর্জ্যাগারে পাশ দিয়ে মানুষ হঁাঁটতে পারত না। সেই বর্জ্যগারকেই আধুনিকতার ছোঁয়া দিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ লক্ষ্যে পরিচ্ছন্ন ফুটপাতের পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণের বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র বা এসটিএসকে নান্দনিক পরিবেশে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ডিএসসিসি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি এসটিএসের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের জন্য মৃত্যুজনিত ঝুঁকি ভাতা হিসেবে ৪ লাখ টাকা করে দেওয়া এবং স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪২০টি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহে সহযোগিতা করে সাজেদা ফাউন্ডেশন ও হারপিক।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রত্যেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ডাস্টবিনে বর্জ্য রাখতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা গেলে নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। নাগরিক সেবাসংক্রান্ত অভিযোগ জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নাগরিকেরা সচেতন হলে এবং নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তন করলে নগরীর পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
অনুষ্ঠান শেষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল— সেফটি গামবুট, হ্যান্ড গ্লাভস, হেলমেট, সেফটি গগলস, ফার্স্ট এইড বক্স, ওয়ার্নিং কোন, সতর্কতামূলক ফ্লোর সাইন ও হাই-ভিজিবিলিটি ভেস্ট।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, এর আগে কলাবাগান, পুরান এলিফ্যান্ট রোডের সবজি বাগান, মালিবাগ ও বুয়েট-সংলগ্ন পালাশী এলাকার এসটিএস আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
