Published on
:
3 min read
বর্তমানে নিজের নাটক ‘জানে পহচানে অনজানে’ (Jaane Pehchane Anjaane)-র প্রদর্শনী উপলক্ষে আমেরিকা ও ক্যানাডা সফরে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খের। দেশের বাইরে থাকলেও ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ আন্দোলনের দিকে নজর রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল-এ পোস্ট করা একটি ভিডিয়ো বার্তায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবাদের ধরন নিয়ে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রবীণ এই অভিনেতা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা ও বিরোধিতার অধিকারকে সমর্থন করেও অনুপম খের প্রশ্ন তুলেছেন—প্রতিবাদের নামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তাঁর মা এবং পুলিশকর্মীদের অপমানের সংস্কৃতি কতটা যুক্তিযুক্ত?
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিয়োতে অনুপম খের স্পষ্ট জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা, তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা বা সমালোচনা করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তবে প্রতিবাদের নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করলে তার সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। অভিনেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কটু ও গালিগালাজপূর্ণ ভাষায় অত্যন্ত ব্যথিত হয়েঠি আমি। তিনি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, বয়সে প্রবীণ এবং আমার মতে তিনি দেশকে সঠিক পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা বা দ্বিমত থাকতেই পারে, কিন্তু নিজের মতামত প্রকাশ করতে গালিগালাজের আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন কেন পড়বে?’ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তির আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কুরুচিকর শব্দ প্রয়োগ করা, তাঁর মাকে নিয়ে অশালীন কথা বলা, কর্তব্যরত পুলিশকর্মী ও মহিলা অফিসারদের হেনস্থা করা কি কোনও সুস্থ প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে?’
ভোট চুরি এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে অনুপম খের আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর বিগত ১২ বছরের কাজকর্মের প্রতি আস্থা রেখেই আমি ভোট দিয়েছি এবং সেই বিশ্বাস আজও অটুট। যদি নির্বাচন কমিশন বা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকে, তবে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সামনে আনুন এবং সাংবিধানিক উপায়ে তদন্তের দাবি জানান। আর যাঁরা সরকার পরিবর্তন করতে চান, তাঁদের ভোটে জিততে হবে।’ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ‘চা-ওয়ালা’ বলে কটাক্ষ করারও তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি জানান, নিম্ন মধ্যবিত্ত বা অতি সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা খেটে খাওয়া মানুষকে তাঁর পেশা বা কাজ নিয়ে অপমান করার কারণ কী? সৎ পথে রোজগার করা তো অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের এই বক্তব্য পেশ করার পরে নিশ্চিত ভাবেই অনুপমের দিকে ধেয়ে আসবে নানা কটূক্তি। ‘অন্ধভক্ত’ বা ‘দালাল’ বলে ট্রোলড হওয়ার সম্ভাবনাকেও তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না। নিজের স্ট্রাগলের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে অনুপম বলেন, ‘আমার ঠাকুরদা একবার আমাকে বলেছিলেন, যে মানুষটা আগেই ভিজে গিয়েছে, সে আর বৃষ্টিকে ভয় পায় না।’ সবশেষে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজের মতামত প্রকাশ করার জন্য দেশের সমস্ত নাগরিককে আহ্বান জানিয়ে অনুপম খের বার্তা দেন, ‘ভদ্র বা মার্জিত হওয়া মানেই চুপ থাকা নয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও দেশের একতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’
FAQ
১. সিইসি বিরোধী আন্দোলন নিয়ে অনুপম খের কী বলেছেন?
গণতন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু তাই বলে অশালীন ভাষা, গালিগালাজ বা সহিংস আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২. ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের কী পরামর্শ দিয়েছেন?
আবেগের বশে গালাগাল না করে আইনি ও সাংবিধানিক পথে উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আর সরকার বদলাতে হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে জিতে জনমত গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।
৩. প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমর্থনে তাঁর বক্তব্য কী?
বিগত ১২ বছরের কাজের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কুরুচিকর আক্রমণ করা, তাঁর প্রবীণ মাকে অশালীন ভাষায় অপমান করা বা তাঁর অতীতের ‘চা-ওয়ালা’ পরিচয়কে খাটো করে দেখা অত্যন্ত বেদনার।
৪. অনলাইন ট্রোলিং প্রসঙ্গে তিনি কী বলেছেন?
কাউকে খুশি করতে নিজের সত্য গোপন করবেন না জানিয়ে নিজের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন এবং তাঁর ঠাকুরদার বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, ‘যে ভিজে গিয়েছে, সে আর বৃষ্টিকে ভয় পায় না।’
৫. বর্তমানে তাঁর পেশাগত ব্যস্ততা কী?
তিনি বর্তমানে ‘জানে পহচানে অনজানে’ নাটক নিয়ে আমেরিকা ও ক্যানাডা সফরে রয়েছেন। সম্প্রতি ‘তনভি দ্য গ্রেট’-এ অভিনয় করেছেন এবং ২০২৭ সালের মার্চে মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘খোসলা কা ঘোসলা ২’ ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে।