রাষ্ট্রদ্রোহ, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার
অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন, লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদন সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha 1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামক ফেসবুক পেজ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন এবং পরবর্তীতে ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেন। তদন্তে তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্যও পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ জানায়, অন্যান্য সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করা, রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের শনাক্ত করা, ঘটনার পেছনে জড়িত ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস সন্ধান করা, অন্যান্য রাষ্ট্রবিরোধী পেজ বা ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রোধ করার স্বার্থেই আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
