রাখির সময়ে মুক্তি পাওয়া একটি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী কৃতি সেনন। এ বার সেই বিতর্কের জেরে সমাজমাধ্যমে ট্রোলিং এবং নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। অভিনেত্রীর অভিযোগ, যাঁরা ভারতীয় সংস্কৃতি রক্ষার কথা বলেছিলেন, তাঁরাই অনলাইনে কৃতির বাবা-মা ও বোনকে অশ্রাব্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
করীনা কপূর খানের ইউটিউব শোয়ে অতিথি হয়ে এসেছিলেন কৃতি। সেখানে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, “এত ঘৃণা যে কেন! আমি সাধারণত পোস্টের নীচে মন্তব্য পড়ি না। কিন্তু কখনও কখনও মানুষ এতটা কুরুচিকর হয়ে ওঠেন! যাঁরা সংস্কৃতি ও সম্মানের কথা বলেন, আশ্চর্যের বিষয়, তাঁরাই আমার বাবা-মা ও বোনের পোস্টে সবচেয়ে নোংরা, অকথ্য ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন।”
কৃতি আরও বলেন, “আমার বোন আমাকে পরামর্শ দিয়েছিল যে, আমার মন্তব্য করার জায়গাটা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমি জিজ্ঞাসা করি যে, কেন? কারণ, ঘটনাটা আমাকে বিচলিত করেছিল। আমার মনে হয়, মহিলাদের নিজেদের জন্য সরব হওয়া জরুরি। এই মানুষগুলোকে কে অধিকার দিয়েছে এমন মন্তব্য করার? আর কিসের ভিত্তিতে এমন কথা বলেন তাঁরা?”
রাখির বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্কের প্রসঙ্গেও নিজের মতামত জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “সাধারণত আমি কোনও বিষয়ে কিছু বলি না। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, এই বিতর্কটা শুধু আমাকে নিয়ে নয়। এর পিছনে আরও বড় একটা বিষয় রয়েছে। আমার মনে হয়, মহিলাদের সব সময় সব কিছুর জন্য বিচার করা হয়। ছোটখাটো বিষয়েও শুধু মহিলাদেরই নিশানা করা হয়। কী পোশাক পরবে, সে খুব বেঁটে না লম্বা, সে অন্তঃসত্ত্বা কি না— এগুলো কী? তবে এটা একান্তই আমার মতামত।”
সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্য এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন কৃতি। অভিনেত্রীর মতে, তারকারা অনেক সময়েই সহজ নিশানা হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “অভিনেতারা সবচেয়ে সহজ নিশানা। একাধিক মানুষের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরাও মানুষ, এ সব আমাদেরও আঘাত করে। সমাজে যে লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা যে ভাবে গভীর ভাবে শিকড় তৈরি করেছে, তা নিয়ে আমি খুবই সরব। এই মানসিকতা ভাঙতে হলে বার বার আঘাত করতে হবে, তবেই তা ভাঙবে।”
রাখির আগে এক গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থার হয়ে একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেন কৃতি। সেখানে তাঁর পোশাককে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত। বিজ্ঞাপনে ভাইকে রাখি পরানোর সময় কৃতির আধুনিক ব্রালেট ও স্কার্ট পরা নিয়ে আপত্তি জানায় সমাজমাধ্যমের একাংশ। পাশাপাশি, বিজ্ঞাপনে পোষ্য কুকুরের হাতে রাখি বাঁধার দৃশ্যটি নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় নিজের পোশাক নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে বিবৃতি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় শেষপর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
কাজের ক্ষেত্রে, কৃতিকে শেষ দেখা গিয়েছে ‘ককটেল ২’ ছবিতে। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শাহিদ কপূর ও রশ্মিকা মন্দানা।
