চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরের মাদারবাড়ী বালুর মাঠে ১৫ হাজার বর্গফুটের একটি দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে মেয়র মাদারবাড়ী বালুর মাঠ পরিদর্শনকালে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
মেয়র বলেন, এখানে ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০০ ফুট প্রস্থের ১৫ হাজার বর্গফুটের একটি খেলার মাঠ হবে। পাশাপাশি একটি রাস্তা ও মানুষের হাঁটার জন্য দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
যাতে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যাদের বৈধ প্লট আছে, তাদের প্লট প্লটের জায়গায়ই থাকবে, মাঠের জায়গা কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না।
আমার প্রতিশ্রুতি ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ করে দেওয়া। তারই অংশ হিসেবে মাদারবাড়ীর এই বালুর মাঠকে বেছে নিয়েছি।
মাদক, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য দূর করতে মাঠের বিকল্প নেই উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এই মাদারবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো খেলার মাঠ নেই, ফলে এখানকার ছেলেরা খেলতে পারছে না। আমরা যদি যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে চাই, তাহলে মাঠের কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ করার যে লক্ষ্য, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা চট্টগ্রামে ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি মাঠ করতে চাই। এই এলাকার সংসদ সদস্য, মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সাথে আমার বুধবারও কথা হয়েছে, উনি বলেছেন চট্টগ্রামের উন্নয়নে যা প্রয়োজন ইনশাআল্লাহ করে দেবেন। যদি এই এলাকায় ফুটসাল বা ছোট পরিসরে খেলার মতো আরো কোনো খালি জায়গা থাকে, আমাদের জানান। আমরা সেটাও করে দেবো।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) এবং হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে। বর্তমানে হালিশহর শিশুপার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নগরের অন্যান্য ওয়ার্ডেও নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
খেলাধুলার সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন, মোজাম্মেল হক, জিয়াউর রহমান জিয়া, মো. আলী, মস্তাফিজ রহমান, মোস্তাক ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
