দেশের একমাত্র মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সক্ষমতা বাড়লেও বাড়েনি জনবল। ফলে সেবাগ্রহীতাদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত বছরের জুনে বিএসটিআইয়ে স্থাপিত হয় অত্যাধুনিক পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষাগার (ল্যাব)। এখানে বর্তমানে ১৫৩টি পণ্যের রাসায়নিক পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিকৃত পণ্যের গুণগত মান ঠিক আছে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে হয় কর্মকর্তদের। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করে। এখানে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ল্যাব না থাকার কারণে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হতো চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থের অপচয় হতো। এমন পরিস্থিতিতে ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব–সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’–এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো আজ পালিত হবে বিশ্ব মান দিবস। পণ্য ও সেবার মানের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
জানা গেছে, বিএসটিআই দেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্য, বৈদ্যুতিক ও প্রকৌশল পণ্য, খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যসহ মোট ৩৩৫ টি পণ্য নজরদারি করছে। এসব পণ্যের মধ্যে চট্টগ্রামে ল্যাবে রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হতো ১৫৩টি পণ্যের। এছাড়া ফিজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা যেত ৬৭টি পণ্যের। নতুন ল্যাবে পানি, গুঁড়ো দুধের মেলামিন, ফায়ার এক্সটিংগুইসারের মান, ত্বকের বিভিন্ন প্রসাধনী, ইলেকট্রিক মিটারের মান, লেখা এবং ছাপাখানার কাগজ পরীক্ষা এবং শিশু খাদ্য, টাইলস, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল, কলম, সস, জুস, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, পেনসিল, চকলেট, মেটার মেলামিন, এন্টিবায়েটিক,স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে বিএসটিআই কার্যালয়ের কাজের সক্ষমতা বাড়লেও জনবল সেভাবে বাড়েনি। বর্তমানে বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলা ছাড়াও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।
বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএসটিআইয়ের মূল তদারকির কাজ চারটি বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে টেস্টিং কেমিক্যাল, টেস্টিং ফিজিক্যাল, মেট্রোলজি ও সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম)। জনবল সংকটের কারণে মাঠ পর্যায়ে বিএসটিআইয়ের মনিটরিং জোরদার করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) বিভাগে একজন উপ–পরিচালক, ৪ জন সহকারী পরিচালক ও ৮ জন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা দিয়ে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে কাজ চালাতে হচ্ছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে মেট্রোলজি বিভাগে। সেখানে ১ একজন উপ–পরিচালক, ২ সহকারী পরিচালক এবং ৩ জন পরিদর্শক রয়েছে। অপরদিকে টেস্টিং ফিজিক্যালে একজন উপপরিচালক, ২ সহকারী পরিচালক এবং ২ পরীক্ষক দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এছাড়া টেস্টিং কেমিক্যাল বিভাগে পরীক্ষক আছেন মাত্র ১১ জন। এছাড়া একজন উপ–পরিচালক এবং ৩ জন সহকারী পরিচালক।
বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ–পরিচালক (সিএম) মোস্তাক আহম্মেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, বিএসটিআই কাজ মূলত ল্যাব নির্ভর। ইতোমধ্যে আমাদের ল্যাবের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। তাই আগের চেয়ে কাজের গতিও বেড়েছে। এদিকে মান দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে সকাল ১১ টায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, ক্যাব সভাপতি এস.এম নাজের হোসাইন প্রমুখ।
