
স্টাফ রিপোর্টার: মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আজ শনিবার ও আগামীকাল রবিবার মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিথির কারণে এবার দুই দিন মহাসপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। সিলেট জেলা ও মহানগরের ৬৩৬টি পূজামণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসব। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
শুক্রবার ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে সকালে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। পূজামণ্ডপগুলোতে এরই মধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ মহাসপ্তমীতে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তমীবিহিত পূজা এবং পুষ্পাঞ্জলিসহ নানা ধর্মীয় আচার পালিত হবে। আগামীকাল মহাষ্টমীতে পূজা, অঞ্জলি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন ভক্তরা।
পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন। আগামী সোমবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ১৬২টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
মহানগরের ১৬২টি মণ্ডপের মধ্যে ১৪৬টি সর্বজনীন ও ১৬টি পারিবারিক। অন্যদিকে, জেলা পর্যায়ে ৪৪৮টি সর্বজনীন এবং ২৬টি পারিবারিক মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। এ জন্য সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবেন দুই শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য।
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) তৎপরতা থাকবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এসএমপির উপকমিশনার মো. আফজাল হোসেন জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট ও সুনামগঞ্জের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ৩০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগরীর কালীবাড়ি মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন। তিনি জানান, বিজিবির সিলেট সেক্টরের আওতাধীন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় মোট এক হাজার ৮০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১০৯টিসহ মোট ১৫২টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে।
নিরাপত্তা জোরদারে ড্রোন প্রযুক্তি ও কে-নাইন ডগ স্কোয়াড ব্যবহার, টহল বৃদ্ধি এবং অনলাইন নজরদারি চালানো হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করবে বিজিবি।
সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাস বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা সিলেটবাসীর। এ লক্ষ্যে পূজামণ্ডপগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সমন্বয় সভা হয়েছে। এবার পূজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই মণ্ডপগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সিসিকের বিশেষ প্রস্তুতি: দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ এবং পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে টানা পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা এবং পূজার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে তদারকি কমিটি গঠন করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। নগরের ৫২টি ওয়ার্ডকে সাতটি ভাগে বিভক্ত করে মহানগর ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাদের সমন্বয়ে সাতটি পৃথক কমিটি করা হয়েছে। বুধবার এসব কমিটি গঠন করা হয়।
