সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং সংবাদ প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে তুরস্কের দুই প্রধান শহর ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। এ সময় কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই শহরে অন্তত তিন হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় কারাবন্দি সাংবাদিকদের ছবি হাতে নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তুরস্কে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধ এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সরকার-নিযুক্ত প্রশাসক বসানোর ঘটনা বেড়েছে।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশটিতে ১১ জন সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছে সংগঠনটি।
এর আগে সরকারের সমালোচনার জেরে জনপ্রিয় সংবাদ চ্যানেল ‘হাল্ক টিভি’তে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সম্প্রচার বন্ধ এবং সরকার-নিযুক্ত প্রশাসক বসানোর অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ‘এলজিবিটি প্রচারণা’র অভিযোগে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘টি২৪’-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট জাফের আরাবকিরলি বলেন, এ আন্দোলন শুধু সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নয়; বরং স্বাধীন গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের সঠিক তথ্য জানার অধিকার রক্ষার জন্যও।
তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোকান দুরমুস অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকার সমাজে একপেশে বক্তব্য ও একক কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, আঙ্কারার বিক্ষোভে কারাবন্দি সাংবাদিক ইসমাইল আরির একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়। সিনকান কারাগার থেকে পাঠানো চিঠিতে তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন ছাড়া কোনো অপরাধ না করেও তাঁকে বন্দি রাখা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাধীন সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান ইসমাইল আরি। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান আবুবকির শাহিনের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাকে অপমান ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে চলতি মাসে ইসমাইল আরিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত সাত মাসে এটি তাঁর দ্বিতীয় গ্রেপ্তার বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: এএফপি
