ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা, আগুন-ভাঙচুরের ভিডিও ভাইরাল
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্যারিসসহ দেশটির একাধিক বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং সরকারি স্থাপনায় প্রবেশের চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের বিভিন্ন দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়োঁ শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীরা টাউনহলে প্রবেশ করে একটি ভাস্কর্যের আবক্ষ মূর্তি উল্টে দেন এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশি সহায়তা চেয়েছেন শহরটির মেয়র। উত্তরাঞ্চলীয় লিলে শহরেও মেয়রের কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
প্যারিসের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তাঁদের ‘মাক্রোঁ, পদত্যাগ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৬০০টির বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্যারিসের প্লেস দে লা রিপাবলিক ও প্লেস দে লা নেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মধ্য প্যারিসের একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উত্তর শহরতলিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্থানীয় অবরোধের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত। শিক্ষকসংকট, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক দাবিতে বিস্তৃত হয়।
