কালবেলা · সাধারণ
সাঈদীর মামলার বাদী মানিকের মৃত্যু: গোপনে গার্ড অব অনারের অভিযোগ, দাফনে বাঁধা জামায়াতের
২৪/১০/২০২৬

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জে তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ নিয়ে পিরোজপুরে তৈরি হয় জটিলতা। জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের একাংশ মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশি পাহারায় মরদেহটি পিরোজপুর পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেখানে সাংবাদিকসহ অন্যদের প্রবেশেও বাধা দেয় পুলিশ।
বিকেলে গোপনীয়ভাবে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ লাইনের ভেতরেই তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তবে তার দাফন কোথায় হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানিক পশারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানিক পশারীকে তার নিজ বাড়িতে দাফনের চেষ্টা করছে পুলিশ প্রশাসন। তবে মরদেহ দাফন নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলে তারা কল কেটে দেন।
মানিক পশারী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিচার চলাকালে মানিক পশারী রাষ্ট্রপক্ষের ছয় নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলেও দাবি করেছিলেন।
মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার মরদেহ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗