ঢাকার নির্ধারিত সড়ক ও ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে লাইসেন্স ছাড়া কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে হকারদের কাছ থেকে কোনো লাইনম্যান বা চাঁদাবাজ টাকা দাবি করলে তাকে ধরে সিটি করপোরেশনে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত হকার উচ্ছেদ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
আবদুস সালাম বলেন, কোনো লাইনম্যান বা চাঁদাবাজ হকারদের কাছে টাকা চাইলে তাঁকে ধরে সিটি করপোরেশনে নিয়ে আসতে হবে। হকারদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।
সড়কে হকার বসার বিষয়ে তিনি বলেন, কাকরাইলের মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে কোনো হকার বসতে পারবেন না। একইভাবে মিরপুর রোড থেকে নিউমার্কেট হয়ে আজিমপুর পর্যন্ত সড়কেও হকার বসতে দেওয়া হবে না।
তবে পথচারীদের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ফুটপাতের ভেতরে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
হকারদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তাঁরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যানবাহন চলাচলের সুবিধা বিবেচনায় গুলিস্তান সিনেমা হল ও রমনা ভবনের সামনে কিছু জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাতের নির্দিষ্ট কিছু অংশে হকারদের বসার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে পুরো ফুটপাত বা সড়ক দখল করে ব্যবসা করা যাবে না।
ফুটপাত পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আবদুস সালাম বলেন, হকারদের নিজেদের বসার জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। কেউ পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে তাঁকে ফুটপাতে বসার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বারবার অভিযান চালানো হবে। এ সময় ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কও পরিষ্কার করা হবে।
সচিবালয়ের বিপরীত পাশের সড়কে হকারদের বসা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকা থেকে হকারদের সরে যেতে তিন দিন ধরে বলা হচ্ছে। এর আগে রাতেও সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সচিবালয় একটি সংরক্ষিত ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল এলাকা হওয়ায় সেখানে হকার বসতে দেওয়া সম্ভব নয়।
হকারদের উদ্দেশে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যাঁদের দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাঁদের নির্ধারিত জায়গার মধ্যেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা না করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে হকারদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মালামাল জব্দ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
হকারদের নিবন্ধন ও লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে আবদুস সালাম জানান, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে হকারদের নিবন্ধিত করা হবে। তাঁদের লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া হবে। পূজার কার্যক্রম শেষ হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভেন্ডার বা হকার ছাড়া অন্য কাউকে ঢাকা শহরে বসতে দেওয়া হবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং হকারদের ব্যবসা নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার বিষয়ে সিটি করপোরেশনের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
The post চাঁদাবাজের খোঁজ পেলে ধরে আনুন: ডিএসসিসি প্রশাসক appeared first on ভোরের চেতনা.
