চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য নেই কোনো সড়ক। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হয় ভাঙাচোরা বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে। এর ওপর সামান্য বৃষ্টিতেই পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। ফলে বছরের প্রায় ছয় মাস জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল ও পাঠদান।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে, বাড়ছে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও। গত এক বছরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ থেকে নেমে এসেছে ১২০ জনে। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও যাতায়াতের দুর্ভোগ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
জানা গেছে, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তৈরি হয়নি কোনো রাস্তা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় কোমলমতি শিশুদের। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো পারাপারের সময় মাঝেমধ্যেই নিচে পড়ে আহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই নয়, বিদ্যালয়টির আরেক বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাশের পুকুরের পানি ঢুকে তলিয়ে যায় পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে বিদ্যালয়টি। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, গত ২১ বছর ধরে তারা এই দুর্ভোগের শিকার। বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান।
দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সমস্যা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।