অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে বুধবার (১৪ অক্টোবর) তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। মাত্র ২২.৪ ওভারে ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া, যার নেপথ্যে ছিল মেগান শটের বিধ্বংসী বোলিং এবং অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও এলিস পেরির অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি।
টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। ইনিংসে শুরু থেকেই বল হাতে তাণ্ডব চালান মেগান শট। তিনি বাংলাদেশের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়ে দলকে মাত্র ৪৫ রানে ৪ উইকেটে বিপাকে ফেলেন। একে একে মুর্শিদা খাতুন ও শারমিন সুলতানাকে সাজঘরে ফেরানোর পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা এবং সোবহানা মোস্তারিকেও শিকার করেন এই অভিজ্ঞ পেসার। ১৬ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করে ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার ছিলেন শট।
প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। পঞ্চম উইকেটে তারা ৫৪ রানের জুটি গড়েন। ৯৩ বল মোকাবিলা করে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫০ রান করেন শারমিন, যাকে ৩৪তম ওভারে আউট করেন পেরি। অন্যদিকে, ইনিংসের হাল ধরে রেখে ৭১ বলে ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন স্বর্ণা।
স্বর্ণাকে দারুণ সহায়তা দেন রাবেয়া খান ও দিশা বিশ্বাস। তারা যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম উইকেটে ২৭ ও ২৩ রান যোগ করেন। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়া। স্বর্ণা ও হাবিবা ইসলাম পিংকীকে আউট করেন সাদারল্যান্ড, আর অ্যাশলে গার্ডনার নেন ২টি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল অস্ট্রেলিয়া। জর্জিয়া ভোল ৬ বলে ১১ রান করার পর সুলতানা খাতুনের বলে এলবিডব্লিউ হন। ২১ রান করে দ্রুত ফিরে যান বেথ মুনিও, যাকে আউট করেন দিশা বিশ্বাস। স্কোরবোর্ডে ৩৮ রান উঠতেই ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল স্বাগতিক দল।
তবে এরপর সব প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় নেন পেরি ও সাদারল্যান্ড। তৃতীয় উইকেটে মাত্র ১০৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটি গড়ে দলকে সহজ জয় এনে দেন এই দুই ব্যাটার। ৬৪ বলে ৮ চারে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন এলিস পেরি। অন্যদিকে, মাত্র ৫২ বলে ১২টি চারে ৭৪ রানের অপরাজিত বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ করে দেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।
