গাজীপুরের টঙ্গীতে চেরাগ আলী এলাকার বেক্সিমকো রোডে অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামক ওষুধ কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের দীর্ঘ চার ঘণ্টারও বেশি সময়ের যৌথ প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টার দিকে ওই ওষুধ কারখানার একটি বহুতল ভবনের ষষ্ঠ তলায় হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রাথমিক অবস্থায় খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে কারখানার অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমাণে ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে টঙ্গী ও আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ১৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।
আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা কারখানার চারপাশের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে প্রবেশাধিকার সীমিত করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে উদ্ধার তৎপরতায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল আলম চৌধুরী জানান, ফায়ার সার্ভিসের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কারখানার ভেতরে প্রচুর কেমিক্যাল থাকায় কর্মীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন এবং সম্পূর্ণ নির্বাপন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। সম্পূর্ণ আগুন নেভানোর পর তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানানো হবে।
