আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী তিন বছরের মধ্যে ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে ওয়াশিংটন।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ২৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সেই অঙ্ককে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে আমেরিকা। এমনটাই জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন গোর।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ভারতে পাঠানোর সময় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বললে হবে না, বাস্তবে ফলাফল দেখাতে হবে।
গোর বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রতিশ্রুতির কথা ফের নিশ্চিত করেছেন। তাঁর কথায়, ‘বর্তমানে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রেকর্ড গড়ে ২৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আগামী তিন বছরে এই অঙ্ককে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের উপরে নিয়ে যেতে আমরা পুরোপুরি মনোযোগী।’
শুধু বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোই নয়, ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের। সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং সুপারইন্টেলিজেন্সের মতো ক্ষেত্রগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের পরিধি যে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, তা বোঝাতে গিয়ে সমুদ্রের গভীর থেকে মহাকাশ পর্যন্ত সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন গোর। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের অংশীদারিত্ব কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় থেমে নেই, বরং তা ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে।
গোরের কথায়, সমুদ্রের গভীরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো থেকে শুরু করে কারখানা, গবেষণাগার এবং গবেষণা কেন্দ্র হয়ে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত হচ্ছে।
এই অংশীদারিত্বের ভিত্তি আরও মজবুত হচ্ছে এবং তার অগ্রগতির গতি বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ভারত ও আমেরিকা একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই চুক্তি আমেরিকার আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলির তুলনায় অনেকটাই আলাদা হবে’, এমনটাও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত চুক্তি করতে চায়। আমরাও চুক্তি করব। আমরা প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি।’ তবে চুক্তির শর্তাবলি বা কোন কোন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা গত এক বছর ধরেই চলছে। তার মধ্যেই মার্কিন শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের জেরে আলোচনায় নতুন কিছু বিষয় উঠে এসেছে।
সেই বিষয়গুলি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে দুই দেশ। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রুবিও জানান, চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দুই দেশ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। অল্প কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি রয়েছে।
রুবিওর কথায়, ‘চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগে যতটা কাছাকাছি পৌঁছনো সম্ভব, আমরা এখন সেই জায়গাতেই রয়েছি। চূড়ান্ত করার জন্য অল্প কয়েকটি বিষয় বাকি রয়েছে।’
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
দ্রুত সেই বিষয়গুলির নিষ্পত্তি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এরপরেই দুই দেশের নেতারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব।
