পূজার ছুটি ও বিচ কার্নিভাল, পর্যটকের পদচারনায় উৎসবমুখর কুয়াকাটা
এনায়েতুর রহমানপ্রকাশ: আপডেট:
শারদীয় দূর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকত। সাথে যুক্ত হয়েছে পর্যটন কর্পোরেশন আয়োজিত ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের বর্নাঢ্য বিচ কার্নিভাল। হোটেল , মোটেল, রিসোর্টগুলো ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।
তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি , দু’শ বছরের পূরানো সামুদ্রিক জাহাজ ও লাল কাকঁড়ার চর সহ সকল পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। আগত পর্যটকরা সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাতার কেটে আনন্দ উন্মাদনায় মেতেছেন। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কেউবা আবার প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একই সৈকতের দিগন্তে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল আকর্ষণ তো আছেই। সৈকতের জিরো পয়েন্টে বসানো হয়েছে ডিজিটাল জায়ান্ট এলইডি স্ক্রীন। যেখান থেকে দেখা যাবে কুয়াকাটার আকর্ষনীয় স্পটগুলোর স্থির ও ভিডিও চিত্র।
কুয়াকাটার আকর্ষণ শুধু সমুদ্র সৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। রাখাইন পল্লি, মিশ্রিপাড়া এসব স্থানেও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। রাখাইন মার্কেট, রাখাইনদের উৎপাদিত পণ্য,ঝিনুক ও আচার বিক্রেতা এবং স্থানীয় খাবারের দোকানিরা বাড়তি বিক্রির আশায় প্রস্তুতি নিয়েছে।

পর্যটকেরা বেড়াতে এলে শুধু হোটেল বা রিসোর্টের ব্যবসা বাড়ে না; জীবিকার সুযোগ তৈরি হয় ছোট দোকানি, পরিবহনশ্রমিক, খাবার বিক্রেতা ও স্থানীয় গাইডদেরও। ফলে পূজোর ছুটি ও কার্নিভাল ঘিরে প্রত্যাশা বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও।
২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত কুয়াকাটায় রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসার সম্ভাবনাকে ঘিরে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের থাকার জন্য এখানে তিন শতাধিক হোটেলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ বাড়ীর পরিবারও প্রস্তুত।
অতিথিরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ,এসআরবি ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটায় এখন তাই বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটকের পদচারণে জমজমাট হয়ে উঠেছে সৈকত, বাজার ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো।
আজ ২২ অক্টোবর থেকে কার্নিভালের দুই দিনে ৩ লাখ পর্যটক আগমনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
