পুলিশের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নিয়মিত টহল ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে রাতের টহল চলাকালে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শেষ রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নিয়মিত টহল ও ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব পালন করছিলেন এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। শেষ রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে মহাসড়কের পাশে টহল গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। এ সময় একটি অজ্ঞাতনামা কাভার্ড ভ্যানের চালক পুলিশ সদস্যদের ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে ধাক্কা দেন বলে পুলিশের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে রফিকুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমান, পিএসআই জাবেদ ওমর এবং ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বি আহত হন। পুলিশের প্রাথমিক বিবরণে আরও বলা হয়, ধাক্কায় এসআই মিজানুর রহমান কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে আটকে গেলে চালক তাঁকে টেনে আনুমানিক আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত ঘোড়াশালের দিকে চলে যান।
পরে স্থানীয় রিকশাচালক রকিবুল ও পথচারী ইমরুল কায়েস আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। সে কালিগঞ্জ ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও পিএসআই জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে ড্রাইভার কনস্টেবল ফজলে রাব্বিকে পাঠানো হয় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও পরিদর্শক (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে ঘটনার পরও কাভার্ড ভ্যান ও চালক শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁদের পরিচয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের গভীর রাতে ওই স্থানে অবস্থানের বিষয়টি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মহাসড়কের পাশে তিনি কী কারণে সেখানে ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং পুলিশের টহল দলের কাছাকাছি কীভাবে উপস্থিত হলেন-এসব বিষয় নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। শুধু গভীর রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি দিয়ে তাঁর অবস্থানের কারণ বা ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বিষয়টি পরিষ্কার করতে ঘটনার আগে ও পরের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে পুলিশের দুই সদস্যের মৃত্যু এবং আরেক সদস্যের চিকিৎসাধীন থাকার ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানের চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
