ভারতের রাজস্থানের কোটা জেলায় দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি মিনিবাস ডিভাইডার ভেঙে প্রায় ২০ ফুট নিচে একটি নালায় পড়ে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। গতকাল শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গাড়িটিতে প্রায় ২০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার বাসিন্দা। সিকার জেলার রিংগাসে খাটু শ্যাম মন্দির দর্শনে যেতে শুক্রবার রাতে তারা বেতুল থেকে রওনা হয়েছিলেন।
সিমলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) নন্দ সিং জানান, গাড়িটি কারাদিয়া টোল প্লাজা পেরিয়ে সুলতানপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি ডিভাইডার ভেঙে নালায় পড়ে একটি দেয়ালে গিয়ে ধাক্কা খায়। সকাল ৭টার দিকে ঘটা এ দুর্ঘটনায় চার যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরও তিনজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। পুলিশের ধারণা, চালক গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গ্রামবাসী ও পথচারীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে যাত্রীদের সহায়তা শুরু করেন। পরে পুলিশ, ভারতীয় জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) উদ্ধারকর্মী এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি তুলতে এনএইচএআইয়ের একটি ক্রেন ব্যবহার করা হয়। সুলতানপুর ব্লকের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) রাজেশ সামার বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
আহতদের কোটা মেডিকেল কলেজ-সংলগ্ন নিউ হাসপাতাল এবং এমবিএস হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। কয়েকজন যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি নিরূপণে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোত। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, কোটা জেলার সিমলিয়া থানা এলাকায় ভোপাল থেকে খাটু শ্যামজির দিকে যাওয়া একটি মিনিবাস সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর গভীরভাবে দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক।