সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি লোহার সেতু পার হতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক ব্যক্তি। সেতুর নিচের পাকা পিলার ভেঙে যাওয়ায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোরকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে এটি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও সেতু দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের পাশে। আহত মনু মিয়া বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। বিশেষ করে বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনে যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু সেতুর বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সংস্কার না হলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবুজ আলমের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পাকা পিলারের ওপর লোহার পাত বসিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এটি। একপর্যায়ে পিলার ভেঙে পড়লে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বাঁশের খুঁটি দিয়ে সেতুটি ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন।
সম্প্রতি সেতুর ভাঙা অংশে পা আটকে আহত হন মনু মিয়া। তার ভাতিজা মিলন আহমেদ জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় একতা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে সার ও আলুর বীজ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তার চাচা। সেতু পার হওয়ার সময় ভারসাম্য রক্ষার জন্য পা নিচে রাখতেই সেটি ভাঙা স্টিলের ফাঁকে আটকে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেতুটির নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সবুজ আলম। তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকার সময় পরিষদের তহবিল থেকে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২২ সাল থেকে এটি নড়বড়ে হয়ে পড়ে আছে। বাঁশের খুঁটির ওপর ভর দিয়ে একটি লোহার সেতু টিকে থাকা অস্বাভাবিক। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী জানান, সেতুটি সংস্কারের জন্য তিনি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে সেতুটি দেখে গেছেন। দ্রুত মেরামতের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সেতুটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নতুন করে প্রাক্কলন ও নকশা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
