যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ প্রেস সচিব কেটি জাচারিয়াকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিন পর বরখাস্ত করেছেন। আইনি যোগ্যতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক এবং তার প্রথম সংবাদসম্মেলনের পর সমালোচনার ঝড় ওঠায় ট্রাম্প নিজেই তাকে পদটি নিয়ে ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছিলেন। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এল এই বরখাস্তের ঘোষণা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি কেটিকে আগেই বলেছিলেন যে এই চাকরিটি চালিয়ে যাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা তার নেই। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমার মতে কেটির প্রতি খুবই অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, গণমাধ্যম তাকে নির্মমভাবে আক্রমণ করেছে। আমি তাকে বলেছিলাম, “তোমার এই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”
যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক
গত সপ্তাহে কেটি জাচারিয়ার প্রথম প্রেস ব্রিফিংটি ছিল বেশ নিষ্প্রভ। এরপরই তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের মতো রক্ষণশীল গণমাধ্যমে কমেন্টটর হিসেবে কাজ করার সময় থেকে কেটি নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় নিয়ে আসছিলেন।
তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘পপুলার ইনফরমেশন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই তার বার পরীক্ষার লাইসেন্স নেই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব ট্রাম্প কেটিতে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিলে তিনি বলেন, “আমি যখন চীনে গিয়েছিলাম....।” তবে তার সেই বাক্যটি অসম্পূর্ণ ছিল এবং এর অর্থ পরিষ্কার হয়নি। উল্লেখ্য, চীনের খুবই কঠিন বার পরীক্ষা কেবল সে দেশের নাগরিকরাই দিতে পারেন।
হোয়াইট হাউজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেটি ২০০৭ সালে পেপারডাইন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং ২০১১ সালে পেপারডাইন কারুসো স্কুল অব ল’ থেকে আইন ডিগ্রি লাভ করেন। নিজের পক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, “আমি যথাযথ যোগ্যতার সঙ্গেই আন্তর্জাতিক লেনদেন আইন চর্চা করেছি।” তবে তিনি বা হোয়াইট হাউজ- কেউই বার পরীক্ষায় পাসের কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
বিদায়ের পরও ট্রাম্পের প্রশংসা
পদ হারানোর পর ট্রাম্পের প্রশংসা করে কেটি জাচারিয়া বলেন, ট্রাম্প খুবই ‘দয়ালু, চমৎকার, মার্জিত, চিন্তাশীল, উৎসাহী ও পরিশ্রমী’ একজন মানুষ। তার অধীনে কাজ করতে পারাটা ছিল বড় সৌভাগ্যের।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং কেটির প্রশংসায় বলেন, আমেরিকান জনগণকে সরকারের অর্জন সম্পর্কে জানাতে কেটি খুবই প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, কেটি চলতি বছরের জুন মাস থেকে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের সিনিয়র যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে এবং এর আগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে দুই মাস পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
কেটির এমন স্বল্প অভিজ্ঞতার সত্ত্বেও ট্রাম্প তাকে হোয়াইট হাউজের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
