বিগ বস বাংলার অন্দরমহল মানেই উত্তেজনার পারদ আর বদলে যাওয়া সমীকরণ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঠিক এমনই এক টানটান মেজাজের মুখোমুখি হলেন ঘরের বাসিন্দারা। এ সপ্তাহের লাক্সারি বাজেট টাস্ককে কেন্দ্র করে ঘরের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে হয়ে উঠল উত্তপ্ত ও রোমাঞ্চকর।
সপ্তাহের লাক্সারি বাজেটের জন্য টাস্ক দেওয়া হয়েছিল বিগ বসের তরফে। দু’টি দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল বাড়ির বাসিন্দারা। খেলাটি হল একটি গোলকধাঁধার মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে মোট তিনজন প্রতিযোগীকে এগোতে হবে। ঢোকা ও বেরোনোর পথের বিভিন্ন ব্যাংকে চারটি ‘ডায়মন্ড’ থাকবে, তা নিতে হবে। এবং হামাগুড়ি দিয়েই বেরোতে হবে গোলকধাঁধা থেকে। তবে এর সঙ্গে তিনটি মজা আছে। হ্যাঁ, তিনটি।
তা কী কী সেগুলো? হামাগুড়ি দেওয়া প্রতিযোগীর চোখ পুরোপুরি বেঁধে দেওয়া হবে, অর্থাৎ সে কিছুই দেখতে পাবে না। তাহলে সে দিক বুঝবে কী করে? বুঝবে মানে ওঝার চেষ্টা করবে তাঁর পার্টনার-এর চিৎকার করে দেওয়া দিকনির্দেশ শুনে। এটা গেল প্রথম মজা। আর দ্বিতীয় মজা হল, অন্য দলের তিনজন ক্রমাগত চিৎকার করে, আওয়াজ করে, ভুল নির্দেশ দিয়ে এমনকি প্রয়োজনে গোলকধাঁধার মধ্যে হামাগুড়ি দেওয়া প্রতিযোগীর শরীরে রং, ছাই ছুড়ে তাকে দিকভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে যাবে। তৃতীয় মজা হল, যদি ওই প্রতিযোগী একাধিকবার হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থা ছেড়ে অল্প একটুও উঠে পড়ে, তাহলে সে বাতিল হয়ে যাবে খেলা থেকে।
https://www.youtube.com/watch?v=OjH_Qfsu904&t=303s
জীতু, ভরত কল এবং তনুশ্রী-রা ছিল প্রতিযোগীদের দিকভ্রষ্ট করার দলে। আর অন্যদিকে প্রতিযোগী হিসেবে গোলকধাঁধায় ঢুকেছিল সৃজলা, রাজবীর এবং মনামী। সৃজলাকে 'গাইড' করছিল দুর্নিবার, রাজবীরকে সাহায্য করছিল নন্দিনী এবং মনামীকে সোনামণি। সৃজলা এবং মনামী 'টাস্ক' পুরো শেষ করতে পারলেও ‘ডিস্কোয়ালিফায়েড’ হয়ে যায় রাজবীর। তবে সৃজলা হামাগুড়ি ভঙ্গি ছেড়ে অন্য একবারের জন্য অন্যভাবে না চলার জন্য জিতে যান শেষমেশ। এবং তা ঘোষণা করে খেলার সঞ্চালক নিরঞ্জন। এবং দলগতভাবে জিতে যায় জীতু-ভরত-তনুশ্রীরা। সেটিও ঘোষণা করে বিগ বস-কে জানায় নিরঞ্জন।
তবে এই খেলায় সবার দুরন্ত পারফরমেন্স দেখে খুশি হয়ে পুরস্কার হিসেবে এ সপ্তাহের গোটা লাক্সারি বাজেট দিয়ে দেন বিগ বস। ঘোষণা শোনামাত্রই খুশিতে ফেটে পড়েন সবাই। মেতে ওঠেন হুল্লোড়ে। কারণ বিগ বস-এর মন জয় করা সহজ নয়। আর তাঁর থেকে ‘পুরস্কার’ পাওয়া তো আরওই সহজ নয়। তাই জয়-পরাজয় ভুলে গোটা লাক্সারি বাজেট পাওয়ায় সকলের মুখেই তখন হাসি।
