Published on
:
2 min read
এই সময়, ঝাড়গ্রাম: কেউ মারা গিয়েছেন তিন দশক আগে। অথচ, জমির দলিলে তিনি দিব্যি 'জীবিত'! আবার উল্টোটাও ঘটেছে। এ ভাবেই উত্তরাধিকারীর ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি করে প্রকৃত মালিকদের জমি অন্যের নামে দলিল করার অভিযোগ উঠেছিল সাঁকরাইলের পাথরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযোগ, ১২৫ জন চাষির প্রায় ৪০০ একর জমির (খেত ও বসতবাড়ি) দলিল তৈরি করা হয়েছিল।
ওই ঘটনায় ২০২৫-এর ১৬ সেপ্টেম্বর সাঁকরাইল থানায় লিখিত অভিযোগ জানান জেলার তৎকালীন রেজিস্ট্রার। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঝাড়গ্রামের সিভিল জাজ (জুনিয়র ডিভিশন) আদালতে মামলা করেন প্রতারিত চাষিরাও। মঙ্গল ও বুধবার পৃথক দু'টি মামলায় আদালত জানিয়ে দিল দলিলগুলো বৈধ নয়।
আদালতের এই রায় ঘোষণার পরে প্রতারিত অন্য চাষিরাও জমি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশার আলো দেখছেন। ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃক নিযুক্ত - আইনজীবী গোপালবন্ধু আচার্য বলেন, 'আদালতের তরফে অভিযুক্তদের একাধিকবার সমন পাঠিয়ে তলব করা হলেও তাঁরা কেউ হাজির হননি। সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভুয়ো নথি দিয়ে তৈরি করা দু'টি দলিল বাতিল করে জমির প্রকৃত মালিকের জমির স্বত্ব কার্যকর করেছেন।'
মঙ্গলবার বাঁকড়া গ্রামের লক্ষণ মাহাতো ও বুধবার মনোজ মাহাতোর ভুয়ো নথি দিয়ে তৈরি করা দলিল বাতিল করেছে আদালত। লক্ষণ বলেন, 'বাবার নামে জমি রয়েছে। ৩৬ বছর আগেই তিনি মারা গিয়েছেন। অথচ, বাবাকে ২০২৫-এ অবিবাহিত এবং মৃত দেখিয়ে ভুয়ো কাগজপত্র দিয়ে দলিল করেছিল কিছু অসাধু লোকজন। আদালতে দ্বারস্থ হয়েছিলাম। ন্যায়বিচার পেয়েছি। আশা করি, এলাকার অন্য প্রতারিত চাষিরাও সুবিচার পাবেন।'
প্রসঙ্গত, গত বছর ওই ঘটনার পরে 'সিট' গঠন করা হয়। মূল অভিযুক্ত-সহ মোট ন'জন গ্রেপ্তার হয়। ধৃতরা এখনও জেলবন্দি। মামলাটি ঝাড়গ্রাম আদালতে বিচারাধীন। ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। প্রতারিত জমির মালিকদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হন ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদীর নির্দেশে বাঁকড়ায় গত মার্চে আইনি শিবির হয়। লক্ষণ মাহাতো, মনোজ মাহাতো-সহ আট জন চাষি ভুয়ো দলিল বাতিলের জন্য সিভিল জাজ (জুনিয়র ডিভিশন) আদালতে মামলা করেন। জুলাইয়ে আরও ১২১টি মামলা দায়ের হয়। বাঁকড়ার উজ্জ্বল মাহাতোর কথায়, ' আশা করি, প্রতারিত অন্য চাষিরাও সুবিচার পাবেন।'