বাঁ দিকে বাজপাখির মতো উড়ে ছোঁ মেরে বল লুফে নিলেন লিটন দাস। যেন নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরার পর তাইজুল ইসলাম-মেহেদী হাসান মিরাজরা এসে লিটনকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করলেন। ইবাদত হোসেন চৌধুরী স্যালুট দিলেন ইকরাম আলী খিলকে।
ইকরামও কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকাশ করলেন হতাশা। আফগানিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটারের জন্য যেটা হতাশার, বাংলাদেশের জন্য সেটাই স্বস্তির। ওভারের পর ওভার বোলিং করে যখন কিছুতেই আফগানিস্তানের উইকেট ফেলা যাচ্ছিল না, লিটনের অবিশ্বাস্য ক্যাচে উইকেটটা পেয়ে যায় বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৩ রান করেছে।
আবুধাবি টেস্ট লিটনের বললেও ভুল বলা হবে না। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১০২ রান। এরই মধ্যে ৯ ডিসমিসাল করেছেন তিনি। যার মধ্যে আটটিই ক্যাচ এবং একটি স্টাম্পিং করেছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক।
আবুধাবি টেস্ট জিততে বাকি দুই সেশনে আফগানিস্তানকে করতে হবে ২৭৬ রান। বাংলাদেশের তুলতে হবে ৬ উইকেট। সেদিকউল্লাহ আতাল ৬৬ রানে ব্যাটিং করছেন। ২১৬ বলের ইনিংসে ২ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন। ইসমাত আলম ৯ বল খেলে এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রানে আফগানিস্তান আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে। দ্রুতই হারাতে পারত আরও একটা উইকেট। ৫৩তম ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন আতাল। তবে তানজিদ হাসান তামিম তা মিস করেছেন।
তামিম ক্যাচ মিস করার পরের বলেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। ৫৩তম ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজকে মিড অনে ঠেলে সিঙ্গেল নেন আতাল। তবে আতালের সঙ্গী শাহিদীর শরীর আর সায় দিল না। মাঠেই বসে পড়া অবস্থায় শাহিদীর চিকিৎসা করতে থাকেন ফিজিওরা। দ্রুতই দুই বদলি খেলোয়াড়ের সহায়তায় আফগানিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটারকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। মাঠ ছাড়ার সময় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বের হতে থাকেন তিনি
শাহিদীর নামের পাশে লেখা আহত অবসর। মানে তাঁর আরও একবার নামার সুযোগ আছে। তবে আফগান বাঁহাতি ব্যাটারের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সময়ও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেছে শাহিদীকে। ৩৩ বলে ২ চারে করেন ২০ রান।
শাহিদীর পরিবর্তে নামেন ইকরাম। আতাল আর তিনি বাংলাদেশের পরীক্ষা নিতে থাকেন। মাঝেমধ্যে চার-ছক্কা মারলেও তাইজুল-মিরাজ-নাঈম হাসানদের একের পর এক বল ডিফেন্স করতে থাকেন তাঁরা (আতাল-ইকরাম)।
