ত্রিদেশীয় সিরিজ
ফিরলেন শেষ ভরসার সাইফ-মোসাদ্দেক, হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ
পারলেন না! সাইফ হাসান কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন কেউ-ই দায়িত্ব নিতে পারলেন না। হতাশ করেই ফিরলেন তারা। এতে যেন বাংলাদেশও ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল। দেড়শ পার করার আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজে রান তাড়ায় নেমে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৬ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ১২ বলে ২ রানে অপরাজিত আছেন রিশাদ হোসেন আর ৬ বলে ৪ রানে নুরুল হাসান সোহান।
তাওহিদ হৃদয় ফেরার পর দায়িত্ব ছিল সাইফ আর মোসাদ্দেকের কাঁধে। কিন্তু সেই দায়িত্ব তারা নিতে পারলেন কোথায়? ফিরলেন দলকে ধংস্তুপে ঠেলে দিয়ে। বাংলাদেশ এখন হারের শঙ্কায়।
হৃদয় ফেরার কিছুক্ষণ পরই ফেরেন মোসাদ্দেক। ইনিংসের ২২তম ওভারে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরলে পতন হয় বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেটের। ১৮ বলে ১১ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
এরপর দলের শেষ ভরসা হিসেবে ছিলেন সাইফ হাসান। উইকেটে তিনি থিতুও হয়ে গিয়েছিলেন। তবে সাইফ যেন নিজের উইকেটের মূল্য বুঝেননি। সেই মাসাকাদজার বলেই তিনি ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ফেরার আগে করেন ৩৭ বলে ২৬ রান।
এখন উইকেটে এসেছেন নুরুল হাসান সোহান আর রিশাদ হোসেন। অসম্ভবকে সম্ভব করতে হবে তাদের। জয়ের জন্য প্রায় দেড়শ রান করতে হবে তাদের।
চাপ বাড়িয়ে ফিরলেন হৃদয়ও
দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল বড় একটি জুটি। সেই দায়িত্ব এসে পড়েছিল অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় আর সাইফ হাসানের কাঁধে। দু’জন শুরুটাও করেছিলেন ভালোই। কিন্তু আশা জাগিয়েও ফিরলেন হৃদয়। চাপ আরও বাড়ল বাংলাদেশের।
চতুর্থ উইকেটে সাইফকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন হৃদয়। তবে পারলেন না সেটি। টাইগার অধিনায়ক ফিরলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। এতে আরও চাপ বাড়ল বাংলাদেশের। ফেরার আগে ২১ বলে ১৩ রান করেছেন হৃদয়।
এখন গুরু দায়িত্ব ছয় নম্বরে নামা মোসাদ্দেক হোসেন আর সাইফ হাসানের। তাদের জুটিই গড়ে দেবে ম্যাচের ভাগ্য।
হঠাৎই ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশ
দারুণ শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে বেশ ভালোভাবেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু হঠাৎই ব্যাটিং ধসে পড়ল বাংলাদেশ। দ্রুততম সময়ে ফিরে গেলেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার।
সৌম্য সরকার ফিরলেও সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। বেশ আগ্রাসী মেজাজেই ছিলেন তিনি। দু’বার জীবনও পেয়েছিলেন। তবুও ইনিংসটিকে রঙিন করতে পারলেন না। ফিরলেন হাফসেঞ্চুরির আগেই।
দশম ওভারের পঞ্চম বলেই একবার ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তামিম। তবে সেই ক্যাচ নিতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ফিল্ডার। বাউন্ডারি পেরিয়ে যায় বল। তবে পরের বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দেন তামিম। নিয়ামুরির বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৩৮ বলে ৪৬ রান।
উইকেটে তখন প্রায় ওভার দুয়েক ব্যাট করে ফেলেছেন অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর দায়িত্ব ছিল তার কাধে। কিন্তু তিনিও সেটি নিতে পারলেন না। ১১তম ওভারে ফিরলেন ব্র্যাড ইভানসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ফেরার আগে করেছেন ৮ বলে ৪ রান।
ব্যাটিং ধস থেকে দলকে উদ্ধার করার দায়িত্ব এখন সাইফ হাসান আর অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের কাধে। চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধেছেন তারা।
মুজারাবানির বলে প্রথম উইকেট হারাল বাংলাদেশ
ইনিংসের শুরু থেকেই একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করছেন তানজিদ হাসান তামিম। তার সঙ্গী সৌম্য সরকারের অবস্থান বিপরীত প্রান্তে। ধরিগতির ব্যাটিংয়ে এগুচ্ছিলেন তিনি। তবে বল নষ্ট করে প্রেসার তৈরি করে ফিরলেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে।
শুরু থেকেই উইকেটে কিছুটা বেগ পেতে দেখা যাচ্ছিল সৌম্য সরকারকে। ১৭ বল খেলে মাত্র তিনটি বল থেকে রান নিতে পেরেছিলেন তিনি। বাকি ১৪টি বল দিয়েছিলেন। সেই চাপের মাঝেই উইকেট দিয়ে ফিরলেন তিনি। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৭ বলে ৯ রান আসে সৌম্যর ব্যাট থেকে।
অন্যপ্রান্তে দারুণ খেলতে থাকা তামিমকে সঙ্গ দিতে এসেছেন অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দায়িত্ব নিতে হবে এই দুজনকে।
বাংলাদেশের তোপ সামলে লড়াকু পুঁজি জিম্বাবুয়ের
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের তোপের মুখে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। সেই তোপ সামলে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রানের পুঁজি দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: বাংলাদেশ ক্রিকেট দল
১৭ অক্টোবর ২০২৬
১৭ অক্টোবর ২০২৬
১৭ অক্টোবর ২০২৬
