কালবেলা · সাধারণ
ফরিদপুরে আট মাস ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫০০ পরিবার
২৫/১০/২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় আট মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই। নদীর তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আট মাস আগে ক্যাবল ছিঁড়ে যায়। ফলে পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আট মাস পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়রা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ বলেন, ‘আট মাস ধরে আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। গরমে কষ্ট হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার দাবি জানাই।’
আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আট মাস ধরে এভাবে চলতে থাকায় আমরা খুব কষ্টে আছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হোক।’
দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা চাই, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।’
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে তলদেশে ক্যাবল লাইনে সংযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো হওয়ায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশা করছি, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗