Published on
:
2 min read
বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিল আড়াই বছরের শিশু। শেষমেশ প্রতিবেশী জেঠুর বাড়ি থেকে মিলল শিশুটির নিথর দেহ। শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক ঘটনা মালদার গাজোল থানা এলাকায়। মৃত শিশুর নাম মিসফার রহমান (২)। শিশুকে খুনের ঘটনার অভিযোগ তুলে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা প্রতিবেশী অভিযুক্ত দম্পতিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গাজোল থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, গাজোল থানার ময়না পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মসিউর রহমানের দুই বছরের ছেলে মিসফারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বৃহস্পতিবার থেকে। দীর্ঘক্ষণ ওই শিশু নিখোঁজ থাকার পরে রাতে গাজোল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয় পরিবারের তরফে। শুক্রবার সাত সকাল থেকেই আবারও বাড়ির লোক প্রতিবেশীদের সহযোগিতা শিশুটির খোঁজে তল্লাশি চালায়। পাড়ার মধ্যেই নানা জায়গায় ওই শিশুর খোঁজ শুরু করে।
এরই মধ্যে প্রতিবেশী মুকলেসুর ও তাঁর স্ত্রী বিউটির গতিবিধি ও কথাবার্তাতে এলাকাবাসীদের সন্দেহ হয়। ওই শিশুর পরিবার ও কিছু গ্রামবাসী মুকলেসুরের বাড়িতে ঢুকে খোঁজাখুঁজি শুরু করতেই দেখে একটি প্লাস্টিকের বস্তা বন্দি অবস্থায় উঠোনের এক কোণে রাখা রয়েছে। সেই বস্তা খুলতেই চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যায় সকলের। তার মধ্যেই ওই শিশুর দেহ লুকোনো ছিল বলে অভিযোগ।
মৃত শিশুর বাবা মসিউর রহমান পুলিশকে জানিয়েছেন, তার ছেলের গলায় ও কপালে আঘাতে চিহ্ন এবং রক্তের দাগ রয়েছে। তাতেই অনুমান করা হচ্ছে, তাঁর ছেলেকে খুন করেছে। এই ঘটনার পিছনে সম্পত্তিগত পুরোনো বিবাদ রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে গোলমাল চলছিল।
গাজোল থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পিছনে প্রকৃত কী কারণ রয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। মৃতের পরিবার যে অভিযোগ করেছে সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে ওই শিশুর জেঠিমা বিউটিকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুকলেসুরকে আপাতত আটক রেখেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃত শিশুর দেহ উদ্ধারের পরে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
