Published on
:
2 min read
সুপ্রকাশ মণ্ডল
ভোটকোশির ভয়াবহ হড়পা বানে ধ্বংসলীলার দেড় মাসের মাথায় ওই বিপর্যয়ে নিখোঁজদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। নিখোঁজ নেপালি নাগরিকদের জন্য এক রকম নিয়ম, বিদেশি নাগরিকদের জন্য পৃথক নিয়ম। বিদেশি নিখোঁজদের তালিকায় ৩২ জন বাঙালি পর্যটকও রয়েছেন।
নিখোঁজ নেপালি নাগরিকদের সরাসরি পরিবারের সদস্যদের থেকে একটি সম্মতিপত্র নিয়ে মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়া হবে। বিদেশি নাগরিকদের তথ্য নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে বিদেশ মন্ত্রক হয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে যাবে। তারা নিখোঁজদের তথ্য যাচাই করবে, বাদ পড়া নাম থাকলে তা যুক্ত করবে এবং নিখোঁজদের তালিকা অনুমোদন করবে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সরকারি ভাবে মৃত ঘোষণা করার জন্য বিদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
নেপাল সরকারের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির দেহ উদ্ধার না হলে বা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত না হলে, কিংবা বন্যার সময়ে তিনি ঠিক কোথায় ছিলেন, তার অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও তাঁকে সরকারি ভাবে নিখোঁজ ঘোষণা করা যেতে পারে। কোনও নিখোঁজ ব্যক্তিকে সরকারি ভাবে মৃত ঘোষণা করার অর্থ এই নয় যে, তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে বা পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘোষণা প্রত্যাহার করা যেতে পারে। তবে কী ভাবে সেই প্রত্যাহার করা হবে, সে সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
পুজোর মুখে নেপাল সরকারের এমন ঘোষণায় পুজোর মুখে নতুন করে বিষাদের ছায়া নিখোঁজদের পরিবারগুলির। নবান্ন সূত্রে খবর, নিখোঁজদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা সরকারি ভাবে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনা সংক্রান্ত যা যোগাযোগ, সবই এ দেশে নেপাল দূতাবাসের মাধ্যমে হচ্ছে। সেখান থেকে যা তথ্য চাওয়া হবে, নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে সাততাড়াতাড়ি ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, নিখোঁজদের পরিবারের একাংশের।
সব স্তরেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় ঘটনার দিন, ২৬ অগস্ট থেকে নিখোঁজ। শুভ্রাংশু বলছেন, 'আমি চাই সাততাড়াতাড়ি ডেথ সার্টিফিকেট না দিয়ে আরও সিরিয়াসলি তল্লাশি চালানো হোক। প্রয়োজনে ভারতের টিমকে তল্লাশি চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক। আমার বিশ্বাস, ওঁরা কোথাও আটকে রয়েছেন।'
পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সিমডাল গ্রামের বছর ৪৩-এর সন্দীপকুমার গড়াই হড়পা বানে নিখোঁজ হয়েছেন। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী তিথি, অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া ছেলে রুদ্র। মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে সন্দীপের শ্যালক রিন্টু সেন বলেন, 'পরিবারের সকলে এখনও আশায় রয়েছেন যে, মানুষটা ফিরে আসবে। আমাদের কেউই ফোন করে কিছু জানায়নি। পুজোর কোনও আনন্দ এই বাড়িতে নেই।' বাঁকুড়ার ইন্দপুরের মুদুনিয়ার বাসিন্দা অশোক পালও ওই বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ। তাঁর এক আত্মীয় সানি দাস বলেন, 'দিন দশেক আগেই অশোকদার বাবা আর স্ত্রী নেপালে গিয়েছিলেন। নেপাল সরকার আর খোঁজাখুঁজি করবে না বলেই তাঁদের জানানো হয়েছিল। কী হবে সংসারটার জানি না।'