ঢাকা: ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা জোরদার এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ৭ হাজার কোটি টাকা ফান্ড প্লেসমেন্টের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক । বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাস মেয়াদে এ অর্থ দেওয়া হবে। ন্যাশনাল ব্যাংকের তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট মোকাবিলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এ অর্থায়ন সহায়ক হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দুটি।
সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ ও নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে ন্যাশনাল ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়, আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার আলোকে সোনালী ব্যাংকের এ অর্থায়ন ন্যাশনাল ব্যাংকের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সোনালী ব্যাংক জানিয়েছে, এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংকে ফান্ড প্লেসমেন্টের মাধ্যমে তারল্য ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে তারা। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত পাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে ব্যাংকটির।
দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে সোনালী ব্যাংক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ন্যাশনাল ব্যাংকে অর্থায়নের এ উদ্যোগকে ব্যাংকিং খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অর্থায়নের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি এবং সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি অনুসরণ করেই এ ফান্ড প্লেসমেন্ট পরিচালিত হবে।
তবে এ অর্থায়নের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক পুনরুদ্ধার, খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের ধারাবাহিক অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সোনালী ব্যাংক।
উভয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এ অর্থায়ন।
