বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকার বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেছেন, 'দেশের অন্যতম বিরল ও সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এই চুনতি বন এশীয়-হাতিদের আবাসস্থল। চুনতি বনভূমি পুনরুদ্ধার পরিবেশগত অগ্রাধিকার। চুনতি বন পুনরুদ্ধারে বন বিভাগ একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, ইতিমধ্যে বন পুনরুদ্ধারে ৭ লক্ষ চারা রোপন করা হয়েছে। আরও কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। চুনতি বন পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বাঁশখালী অফিসার্স ক্লাব হলরুমে চুনতি বনাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল বন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় চুনতি বন পুনরুদ্ধার শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জলদি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, 'চুনতি বনে বাঁশ হাতির প্রধান খাদ্য। বন উজাড় ও দখলের কারণে খাদ্যের এই প্রাকৃতিক উৎস ধ্বংস হয়ে গেলে বুনো হাতির দল বাধ্য হয়ে খাবারের সন্ধানে লোকালয় ও কৃষিজমিতে হানা দেয়। যার ফলে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত, যা ইতিমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাতে চুনতি বন পুনরুদ্ধার করে হাতির আবাসস্থল বাঁচিয়ে রাখতে হবে।'
চুনতি বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও চুনতি বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে অন্যান্য বক্তারা বলেন, 'চুনতি বনাঞ্চলের অবক্ষয় রোধ ও পুনরুদ্ধার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বন ও বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং চুনতি পুনরুদ্ধারে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তারা।
এ সময় সেমিনারে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজের সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী।
সেমিনারে জলদি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হকের সঞ্চালনায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ মিসবাহুজ্জামান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা, ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হোসাইন, চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দ্বিপান্বিতা ভট্টাচার্য, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক, চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।'
সেমিনার শেষে বাঁশখালী অফিসার্স ক্লাব হলরুমে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত আট পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবে ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।'
