স্বপ্নের নারীর জন্য সব বিক্রি, ১৯০০ কিমি পাড়ি দিয়ে জানলেন তিনি এআইয়ের তৈরি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার দূরের এক শহরে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, যাকে ভালোবেসে তিনি সবকিছু ছেড়ে এসেছেন সেই নারী রক্ত-মাংসের কোনো মানুষ নন, বরং তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।
ব্রাজিলের মারানহো রাজ্যের মার্তিন্স নামের এক রাজমিস্ত্রী স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে জানান, ২০২০ সালে তিনি জেসিকা অলিভিয়েরা নামের এক নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট দেখতে পান।
৩ লাখেরও বেশি ফলোয়ারযুক্ত ওই অ্যাকাউন্টে খামারে গ্রামীণ জীবনযাপন করা এক নারীর ভিডিও পোস্ট করা হতো। সেখানে ওই নারী পুরুষদের তার খামারে এসে বসবাস করার আহ্বান জানান এবং তাদের থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। মায়ের মৃত্যুর পর চরম একাকীত্বে ভোগা মার্তিন্স ভেবেছিলেন, এই নারী তাকে নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন।
আরও পড়ুন
ভবিষ্যতের জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন ভেবে মার্তিন্স গত ৯ অক্টোবর তার সমস্ত জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন এবং ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস গেরেইসের রাজধানী বেলো হরিজোন্টে যাওয়ার তহবিল জোগাড় করেন। একদিনের বেশি সময় ধরে বাসে ভ্রমণ করে তিনি ১১ অক্টোবর সেই শহরে পৌঁছান।
তবে শহরে পৌঁছানোর পর তার সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ওই নারীর ছবি হাতে নিয়ে তিনি শহরের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করেন যে তারা তাকে চেনেন কি না, কিন্তু কেউ তাকে চিনতে পারেনি। পরে তিনি একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে গেলে জানতে পারেন যে ওই নামে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, যাকে নিয়ে তিনি এত স্বপ্ন দেখেছেন, সে আসলে একটি এআই ক্যারেক্টার।
মার্তিন্স হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি কেবল হতাশা, মন খারাপ আর বিষণ্ণতা বয়ে আনে। অনেকেই ভালোবাসার সম্পর্ক খুঁজছেন, আমিও তাই এসেছিলাম।’
এদিকে, ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন যে চরিত্রটি এআই-এর তৈরি এবং মার্তিন্সের সঙ্গে তার কখনো সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ওই ভার্চুয়াল চরিত্রটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমি এখানে এসে স্পষ্ট করে বলছি, আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল থেকে আমি কখনো কারো সঙ্গে কথা বলিনি। উদ্দেশ্য ছিল এঙ্গেজমেন্ট বা পরিচিতি বাড়ানো। আমি কখনো কারো সঙ্গে কথা বলিনি, বেলো হরিজোন্টে কাউকে নিয়েও যাইনি। যা ঘটছে তা আমার কাছেও বেশ অবাক করার মতো।’
সফরে সমস্ত টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় মার্তিন্স সেই শহরে অসহায় অবস্থায় আটকা পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি বাসের টিকিট দিয়ে সহায়তা করেন।
এত বড় প্রতারণার শিকার হওয়ার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছেড়ে দেননি মার্তিন্স। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের বাসায় থাকছেন এবং ভবিষ্যতে মনের মতো কাউকে পাওয়ার আশায় আবারও বেলো হরিজোন্টে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মার্তিন্স বলেন, ‘আমি তাকে পাইনি, কিন্তু অন্য কাউকে খুঁজে নেব এবং আমি আবার ঠিক সেখানেই যাব।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এই বেলো হরিজোন্টে শহরে এসে এআই নারীর প্রেমে প্রতারিত হওয়ার ঘটনা ঘটল এমন তিনজন পুরুষের ক্ষেত্রে। সূত্র: এনডিটিভি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
একা থাকা এবং একাকীত্বে ভোগা এক জিনিস নয়
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->একা থাকার মধ্যে একধরনের অদ্ভুত স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি যা খুশি খেতে পারেন, নিজের মতো করে ঘর সাজাতে পারেন এবং কাউকে কোনো জবাবদিহি না করেই অলস সময় কাটানোর বিলাসিতা উপভোগ করতে পারেন। তবে এই একই স্বাধীনতা কখনো কখনো ভীষণ ভারী মনে হতে পারে। বিশেষ করে যখন আপনার দিনটি খারাপ যায়, অসুস্থ হয়ে পড়েন কিংবা কোনো এক সন্ধ্যায় সম্পূর্ণ ফাঁকা ঘরে ফিরে আসেন। একা থাকা মানে শুধু আত্মনির্ভরশীল হওয়া নয়, বরং একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করতে শেখাও।
‘এইচটি লাইফস্টাইল’-এর ধারাবাহিক আয়োজন ‘থিংস নোবডি টেলস ইউ অ্যাবাউট’-এর এই পর্বে একাকী জীবন কেমন হয়, তা বিশ্লেষণ করেছেন পরামর্শদাতা মনোবিজ্ঞানী, লেখিকা ও লাইফ কোচ দামিনী গ্রোভার।
দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একসময় ক্লান্তি আসতে পারে
সবকিছু একা সামলানোর পেছনে থাকে এক অদৃশ্য মানসিক চাপ। কী খাবেন তা ঠিক করা, ইউটিলিটি বিল দেওয়া, কল চুইয়ে পানি পড়া ঠিক করা কিংবা অসুস্থতার দিনগুলোতে পাশে কেউ থাকা। এই ছোটখাটো বিষয়গুলোর মানসিক বোঝা ভাগ করে নেওয়ার কেউ থাকে না।
আরও পড়ুন
দামিনী বলেন, ‘যখন সব দায়িত্ব আপনার কাঁধেই এসে পড়ে, তখন প্রতিটা সিদ্ধান্ত এমনকি সবচেয়ে ছোটটাও নেওয়া মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।’
নিস্তব্ধতার সঙ্গে সখ্য গঠন
একাকী জীবনে নিস্তব্ধতার সঙ্গে আপনার একটি নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। দামিনীর মতে, শুরুতে পুরো ঘর নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকাটা বেশ দারুণ মনে হয়। কিন্তু এমন কিছু সন্ধ্যা আসে, যখন সারাদিনের ধকল শেষে ঘরে ফিরে আপনি আবিষ্কার করবেন এটি ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। মাঝেমধ্যে আমাদের খুব গভীর কোনো আলোচনারও প্রয়োজন হয় না, কেবল আশেপাশে পরিচিত মানুষের উপস্থিতি থেকে যে স্বস্তি পাওয়া যায় আমরা সেটাই মিস করি।
আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি
বিস্ময়কর হলেও সত্য, একা থাকা আমাদের নিজেদের সঙ্গে এক নতুন উপায়ে পরিচয় হওয়ার সুযোগ করে দেয়। যখন আমরা ক্রমাগত চারপাশে লোকজনের মাঝে থাকি না, তখন আমরা আমাদের চিন্তা, আবেগ, অভ্যাস এবং আচরণের ধরন সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হয়ে উঠি।
দামিনী বলেন, ‘অনেকের জন্য এটি আত্ম-সচেতনতা বা নিজেকে জানার একটি বড় সুযোগ হয়ে ওঠে। তবে যারা চিরকাল ব্যস্ত ও হইচইপূর্ণ পরিবারে বড় হয়েছেন, তাদের জন্য শুরুতে এটি কিছুটা অদ্ভুত বা অচেনা ঠেকতে পারে।’
আমরা খুব কমই এই বিষয়ে আলোচনা করি যে ‘স্বাধীনতা’ এবং ‘সহযোগিতা পাওয়ার ইচ্ছা’ দুটো পাশাপাশি চলতে পারে। একা থাকা উপভোগ করা মানে এই নয় যে আপনি কখনো একাকীত্বে ভুগবেন না, কারও সাহায্য চাইবেন না কিংবা কেউ এসে একটু খেয়াল রাখুক তা আশা করবেন না। স্বাবলম্বী হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনাকে সব সময় মানসিকভাবেও পুরোপুরি স্বাবলম্বী হয়ে থাকতে হবে।
তা সত্ত্বেও, নিজের পছন্দমতো একটি জীবন গড়ে তোলার মধ্যে এক অপরিসীম আত্মশক্তি নিহিত রয়েছে।
দামিনী উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি পদক্ষেপে চারপাশের মানুষের সঙ্গে সমঝোতা না করেই আপনি আবিষ্কার করতে শুরু করেন যে আপনি আসলে কী পছন্দ করেন, আপনার কাজের স্বাভাবিক ছন্দ কী এবং আপনার ঘর ও জীবনকে আপনি কীভাবে দেখতে চান।’
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি বোঝা যে একা থাকা এবং একাকীত্বে ভোগা এক জিনিস নয়। আপনি একা থেকেও মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকতে পারেন, আবার জনাকীর্ণ মানুষের মাঝে থেকেও ভীষণ একা বোধ করতে পারেন।
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ম্যারাথনে ৭৭ বছর বয়সে ২১ কিমি দৌড়ানো কে এই কুইরুবেন?
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বয়স যে শুধুই একটি সংখ্যা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির সামনে বার্ধক্য যে কোনো বাধাই নয়-তা আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করলেন ৭৭ বছর বয়সী ফিলিপিনো অ্যাথলেট কুইরুবেন আমাগা অ্যাবেলা। যিনি ভক্তদের কাছে ভালোবেসে পরিচিত ‘তাতায় রুবেন’ নামে। লাপু-লাপু সিটিতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক প্রথম ‘জেপার্ক আইল্যান্ড মাকতান ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন’-এ অংশ নিয়ে ২১ কিলোমিটারের দীর্ঘ ‘হাফ ম্যারাথন’ সফলভাবে শেষ করেছেন এই প্রবীণ দৌড়বিদ।
ফিলিপাইনের বো হোল প্রদেশের ডাগোহয় এলাকার পেশায় কৃষক তাতায় রুবেন মাত্র ২ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে ২১ কিলোমিটারের এই চ্যালেঞ্জিং পথ অতিক্রম করেন। তার এই অদম্য শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা ম্যারাথনে উপস্থিত তরুণ প্রজন্মসহ হাজারো দর্শককে স্তম্ভিত ও অনুপ্রাণিত করেছে।
আরও পড়ুন
বিআইএম ও মেগাওয়েয়ার সেবুর যৌথ পরিচালনায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের বহু তরুণ দৌড়বিদ অংশ নেন। তবে শত শত তরুণের ভিড়ে ৭৭ বছরের তাতায় রুবেনের সুগঠিত মেদহীন শরীর, কপালে ঐতিহ্যবাহী হেডব্যান্ড এবং বুকে ‘২১৬৪৫’ নম্বর বিফ নিয়ে দৌড়ানো ছিল পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ। যখন তিনি ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করেন, তখন পুরো এলাকা করতালি ও উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়ভাবে ‘বো হোলের গর্ব’ হিসেবে পরিচিত তাতায় রুবেন এর আগেও একাধিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিয়ে চমক দেখিয়েছেন। প্রবীণ বয়সে যেখানে সাধারণ মানুষ নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগেন, সেখানে তিনি দৈনিক শারীরিক অনুশীলন ও সুস্থ জীবনযাত্রার মাধ্যমে তরুণদের মতোই ফিটনেস ধরে রেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই সাফল্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে নেটদুনিয়ায় বয়ে যাচ্ছে প্রশংসার জোয়ার। ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ তার এই অবিশ্বাস্য অর্জনকে সম্মান জানিয়ে বলছেন-শরীর ও মনের শক্তি থাকলে কোনো স্বপ্নই অধরা নয়, আর বয়স কখনো সাফল্যের পথ আটকাতে পারে না।
আজহার/
আরও পড়ুন
গ্রিনল্যান্ড: যেখানে নেই কোনো সড়ক, ৮০ শতাংশ বরফে ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বিশ্বমানচিত্রের দিকে তাকিয়ে কখনো কি ভেবেছেন গ্রিনল্যান্ড আসলে কেমন জায়গা? সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশাল গন্তব্যটি পৃথিবীর সবচেয়ে অস্পৃষ্ট ও নির্জন স্থানগুলোর একটি।
বরফে ঢাকা একটি জায়গার নাম কেন ‘গ্রিনল্যান্ড’ রাখা হলো কিংবা কেন সেখানে গাড়ির চেয়ে নৌকার সংখ্যা বেশি। এরকম বেশ কিছু কারণে গ্রিনল্যান্ড এত বন্য, দূরবর্তী ও আকর্ষণীয়।
এটি বিশাল, কিন্তু প্রায় কোনো মানুষ বাস করে না
গ্রিনল্যান্ডের আয়তন অভাবনীয় পশ্চিম ইউরোপের প্রায় সমান কিংবা পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ। যা একে পৃথিবীর ১২তম বৃহত্তম দেশে পরিণত করেছে। এর জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার। অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যা মাত্র ০ দশমিক ০৩ জন! আপনি যদি কোলাহল ছেড়ে নির্জনতায় ডুব দিতে চান, তবে এটিই আপনার জন্য স্বর্গরাজ্য। দ্বীপটির ৮০ শতাংশ এলাকা বিশাল বরফের চাদরে ঢাকা, যা কোনো কোনো স্থানে ৩ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত গভীর।
আরও পড়ুন
যোগাযোগব্যবস্থা একদম অপ্রত্যাশিত
দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাববেনও না। গ্রিনল্যান্ডের শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগের কোনো রাস্তা নেই। দুর্গম খাঁড়ি এবং বিশাল বরফের চাদর বিভিন্ন লোকালয়কে আলাদা করে রাখায় উন্মুক্ত মহাসাগরই সেখানকার প্রধান মহাসড়ক বা হাইওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে গ্রিনল্যান্ডের বহু মানুষের কাছে গাড়ির চেয়ে নৌকার সংখ্যা বেশি। পুরো দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম পাকা রাস্তাটি মাত্র ৩৫ কিলোমিটারের মতো যা ভলকসওয়াগেন কোম্পানি কাঙ্গারলুসুয়াক-এর কাছে বরফের ওপর শীতল আবহাওয়ায় গাড়ি পরীক্ষার ট্র্যাক হিসেবে তৈরি করেছিল।
সেখানে পৌঁছাতে হলেও বেশ পরিকল্পনা করতে হয়। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা থেকে সরাসরি সেখানে ফ্লাইট নেই; ভ্রমণকারীদের অবশ্যই ডেনমার্ক অথবা আইসল্যান্ড (রেকিয়াভিক) হয়ে ট্রানজিট নিয়ে যেতে হয়।
জায়গার নাম ‘গ্রিনল্যান্ড’ কেন
এর জন্য এক নির্বাসিত ভাইকিংকে ধন্যবাদ দিতে পারেন! দশম শতাব্দীর শেষের দিকে ‘এরিক দ্য রেড’ নামে এক ভাইকিং বসতি স্থাপনকারীদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে চতুরতার সঙ্গে এই ‘গ্রিনল্যান্ড’ নামটি দিয়েছিলো। পশ্চিমাদের কাছে এটি গ্রিনল্যান্ড নামে পরিচিত হলেও, স্থানীয় আদিবাসীরা তাদের মাতৃভূমিকে বলে ‘কালাল্লিত নুনাত’ যার অর্থ ‘গ্রিনল্যান্ডবাসীদের দেশ’।
আজ সেখানে আধুনিক পশ্চিমা সংস্কৃতির পাশাপাশি ইনুইট ঐতিহ্য সমান্তরালভাবে টিকে আছে। স্থানীয় শিকারিরা শীতকালে বরফাবৃত সীমানায় যাতায়াতের জন্য এখনও ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রিনল্যান্ডিক স্লেজ কুকুর’ ব্যবহার করেন। জাত অক্ষুণ্ণ রাখতে আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে অন্য যেকোনো জাতের কুকুর আনা বেআইনি।
অতুলনীয় রোমাঞ্চকর আউটডোর অভিজ্ঞতা
আপনি ‘সেরমেক কুজালেক’ হিমবাহ (উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে সক্রিয় হিমবাহ) থেকে ভেসে আসা বিশাল হিমশৈল বা আইসবার্গের মধ্য দিয়ে ক্রুজ ভ্রমণ করুন কিংবা বিখ্যাত ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ 'আর্কটিক সার্কেল ট্রেইল'-এ হাইকিং করুন গ্রিনল্যান্ড প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য।
গ্রীষ্মকালে মিডনাইট সান বা নিশীথ সূর্যের নিচে সেখানকার তাপমাত্রা ১৮-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে, যা ভ্রমণের জন্য বেশ মনোরম। অন্যদিকে শীতকাল নিয়ে আসে মেরু অঞ্চলের সম্পূর্ণ অন্ধকার আর নরদার্ন লাইটস বা মেরুজ্যোতির এক অনন্য রূপ।
গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষিত বনাঞ্চল ‘উত্তর-পূর্ব গ্রিনল্যান্ড জাতীয় উদ্যান’ এবং তিনটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। বন্যপ্রাণী, সেখানকার চমৎকার রঙিন বাড়ি কিংবা ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রিনল্যান্ডিক কফি’ (হুইস্কি, কালুয়া, গ্র্যান্ড মার্নিয়ার ও কফির আগুনে পোড়ানো মিশ্রণ, যার ওপরে হুইপড ক্রিম থাকে) যা-ই উপভোগ করতে যান না কেন, আর্কটিকের এই গন্তব্য আপনাকে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার উপহার দেবে।
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
শান্তি পুরস্কার নরওয়েতে দেওয়া হয়, অন্যান্য পুরস্কার সুইডেনে কেন?
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী, লেখক এবং শান্তি কর্মীদের ওপর আলো এসে পড়ে। তবে একটি বিশেষ কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারটি অন্য সব ক্যাটাগরির থেকে আলাদা। অন্যান্য সব নোবেল পুরস্কার সুইডেনে দেওয়া হলেও, নোবেল শান্তি পুরস্কারের অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবেশী দেশ নরওয়েতে। এই পার্থক্যের মূল কারণ সুইডিশ উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা, যিনি তার উইলের মাধ্যমে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারগুলো চালু করেছিলেন।
নোবেল পুরস্কার কোথায় কোথায় দেওয়া হয়?
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসা এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোমে দেওয় হয়। পরবর্তীতে চালু হওয়া ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে সুইডেন রিকসব্যাঙ্ক পুরস্কার’ বা অর্থনীতিতে নোবেলও সুইডেনের রাজধানীতেই দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয় হয় নরওয়ের অসলো সিটি হলে। প্রথা অনুযায়ী, ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণ করে প্রতিবছর এই দিনেই সবকটি পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। নোবেল পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের এই নিয়মটি নোবেলের উইলে উল্লিখিত নির্দেশনারই অংশ।
আরও পড়ুন
আলফ্রেড নোবেল কেন নরওয়েকে বেছে নিয়েছিলেন?
১৮৯৫ সালে স্বাক্ষরিত তার উইলে নোবেল স্পষ্ট করে লিখে গিয়েছিলেন যে, শান্তি পুরস্কারটির বিজয়ী নির্বাচন করবে নরওয়ের পার্লামেন্ট (যা ‘স্টোর্টিং’ নামে পরিচিত) দ্বারা গঠিত একটি কমিটি। অন্যদিকে, মূল বাকি পুরস্কারগুলোর দায়িত্ব তিনি দিয়েছিলেন সুইডিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
তবে নোবেল কেন শান্তি পুরস্কারের দায়িত্ব নরওয়েজীয় কমিটির ওপর ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, উইলে তার কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে যাননি। এ কারণে ইতিহাসবিদরা একক কোনো নির্দিষ্ট উত্তরের বদলে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ বিবেচনা করেন।
রাজনৈতিক ইউনিয়ন: নোবেলের জীবদ্দশায় নরওয়ে এবং সুইডেন একজন রাজার অধীনে একই ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯০৫ সালে নরওয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগ পর্যন্ত এই ইউনিয়ন বজায় ছিল।
শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি: ১৮৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক বিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তিতে নরওয়ের যে রাজনৈতিক আগ্রহ ছিল, তা-ও হয়তো নোবেলের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই কারণগুলোকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এটি পরিষ্কার করা হয়েছে যে আসল কারণটি নিশ্চিতভাবে জানা নেই।
শান্তি পুরস্কার কি ভিন্নভাবে বাছাই করা হয়?
হ্যাঁ। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করে, আর অন্যান্য ক্যাটাগরির বিজয়ী নির্বাচন করে সুইডেনের পৃথক কিছু প্রতিষ্ঠান। এই কমিটিটি নরওয়ের পার্লামেন্ট কর্তৃক নির্বাচিত হয়, যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা স্বাধীনভাবে কাজ করেন।
তাই নোবেল শান্তি পুরস্কারের স্থান এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া উভয়ই আলফ্রেড নোবেলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রতিফলন, এটি পরবর্তীতে সুইডেন থেকে নরওয়েতে স্থানান্তরিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
যদিও নোবেলের এই পছন্দের সঠিক কারণটি হয়তো কখনোই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না, তবুও তার উইল আজও বিশ্বের অন্যতম সেরা শান্তি পুরস্কার কোথায় প্রদান করা হবে তা নির্ধারণ করে চলেছে।
তামান্না রুপা/
