রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তিন দফায় অন্তত ২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া।
অন্যদিকে, রাশিয়ার দাবি, রাতভর মস্কোর দিকে ৬৩০টি ড্রোন পাঠিয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে তিনটিতে ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র ছিল। এসব অস্ত্র বিস্তীর্ণ এলাকায় ছোট ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়। বেসামরিক মানুষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করায় অনেক দেশ এ ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে কিয়েভে তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতভর ইউক্রেনের ১২টি অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরের কাছে লোজোভায় একটি বাজারে রুশ হামলায় দুজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় তিনজন এবং পার্শ্ববর্তী দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা রাতভর ইউক্রেনের ওদেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত জাহাজ লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাতভর রাজধানীর দিকে আসা ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর কাছে দুজন আহত হয়েছেন। তার দাবি, অধিকাংশ ড্রোন রাজধানীতে পৌঁছানোর আগেই দূরবর্তী এলাকায় ভূপাতিত করা হয়েছে।
স্টারলিংক নিয়ে ট্রাম্পের দাবি
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ইউক্রেনে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পুনর্বহাল করেছেন। ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প মাস্ককে ফোন করে ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে অনুরোধ করেছিলেন।
তবে ট্রাম্প নিজে মাস্ককে ফোন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ফোন করেছি কি না, কিংবা অন্য কেউ ফোন করেছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। মূল কথা হলো, তিনি এটি আবার চালু করেছেন।’
তবে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনে স্টারলিংকের গতি এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, স্টারলিংক ব্যবহারে বিধিনিষেধ অনেকটাই আগের মতো বহাল রয়েছে। কিছু ড্রোন ইউনিট ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে ড্রোন পরিচালনা করতে পারলেও সামগ্রিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। কী ঘটছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়াকেই বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কে টানাপোড়েন
গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউক্রেনের মধ্যে মতবিরোধ বেড়েছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এমনকি জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা এড়িয়ে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের মনোভাব নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ‘মানবিক’ বলে অভিহিত করায় উইটকফের সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হাতে আটক ৭৪ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন উইটকফ।
জেলেনস্কি পাল্টা মন্তব্যে বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাশিয়ার “মানবিক” ব্যক্তিরা কিয়েভে তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন।’
কিয়েভের অভিযোগ, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র ঘাটতি রেখেছে। ইউক্রেনের ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহৃত স্টারলিংক সেবায় বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নে কেনা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও সরবরাহ করা হয়নি। তবে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নীতি পরিবর্তনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।
