ফরাসি প্রেসিডেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বাহরাইন থেকেও সমপরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সৌদি আরবের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের জন্য দেওয়া মাসিক ৯৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি যোগ করলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টন। ফরাসি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ দেশটির মোট ডিজেল ব্যবহারের ১০ শতাংশের কিছু বেশি।
দেশটিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনসাধারণের অসন্তোষের মধ্যে ম্যাক্রোঁর এই সফর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব কমানো এবং জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
২০ অক্টোবর বাহরাইনের রাজধানী মানামায় পৌঁছালে দেশটির রাজা হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ম্যাক্রোঁকে স্বাগত জানান। এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করেন। তাঁর সফরসূচিতে কাতারও রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা অর্জন করতে চাইছে প্যারিস।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেশটির ডিজেলপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাড়তি নিশ্চয়তা তৈরি করবে। তবে প্রতিশ্রুতি পাওয়া এবং বাস্তবে জ্বালানি হাতে পাওয়া এক বিষয় নয়। সরবরাহ কখন শুরু হবে, কীভাবে পরিবহন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত কী—এসব বিষয়ের ওপর উদ্যোগটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ ফ্রান্সের জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ডিজেলের দাম কতটা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহের বাস্তবায়ন এবং সরকারি করসহ বিভিন্ন বিষয় খুচরা মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি আদায় ম্যাক্রোঁর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে প্রতিশ্রুত জ্বালানি নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ, বাজারে তার প্রভাব এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানির মূল্যচাপ কতটা কমানো সম্ভব হয়, তার ওপর।
The post জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ম্যাক্রোঁর সাফল্য, মাসে ২ লাখ টন ডিজেলের প্রতিশ্রুতি appeared first on ভোরের চেতনা.
