মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে সাময়িক মানবিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে কিয়েভ ও মস্কো। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
দুই দেশের সামরিক ও প্রশাসনিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ওলেশকিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ শহরটিতে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো, মাইন অপসারণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল শহরটিতে। বর্তমানে সেখানে আনুমানিক ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষ আটকা পড়ে আছেন। খাদ্য ও ওষুধের সংকটে থাকা এসব মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোই যুদ্ধবিরতির অন্যতম লক্ষ্য।
এই চুক্তির পেছনে মেলানিয়া ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের অপহৃত শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন। শহরটির মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে পোপ লিও উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন। পরে আলোচনা সুইজারল্যান্ডেও সম্প্রসারিত হতে পারে।
তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আগামী ১০ বছর দেশটির সেনাবাহিনীকে কার্যকর রাখার জন্য সামরিক অর্থায়নের শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন জেলেনস্কি।
এদিকে, শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইউক্রেন ও রাশিয়া ২৭০ জন করে মোট ৫৪০ জন বন্দি সেনা সদস্য বিনিময় করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রসিকিউটর অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চার বছরের সংঘাতে দেশটির ১৯ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৭৬২ জন শিশু।
