Published on
:
2 min read
বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
শারদোৎসবে মেতে উঠেছে বাংলা। তারই সঙ্গে ফের চর্চায় এই প্রশ্ন— সিপিএম এবং অন্য বামপন্থী দলগুলির বুকস্টলে ‘দুর্গাপুজো’ লেখার যে নির্দেশ দিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার, তা কি শেষ পর্যন্ত মানা হবে?এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে বাম দলগুলি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে, এমন ভাবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পশ্চিম বর্ধমান জেলা সিপিএমের পক্ষ থেকে ৫০টির মতো বইয়ের স্টল হবে বিভিন্ন মণ্ডপ লাগোয়া জায়গায়। জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রত্যেক বছর পুজো সময়ে যে ভাবে সিপিএম বইয়ের স্টল দেয়, তা এ বারও অব্যাহত থাকবে। তা হলে স্টলের সামনে ‘দুর্গাপুজো’ কি লেখা থাকবে না?
সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘আমরা প্রত্যেক বছর যে ভাবে মানুষের কাছে আবেদন করি, সে ভাবে এ বারও বই কেনার জন্য আবেদন করব। আমাদের স্টল হবে। দুর্গাপুজো যেমন সবার, তেমনই শারদোৎসবের কথা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী পাঠে রয়েছে। আবার রবীন্দ্রনাথের প্রচুর লেখায় রয়েছে শারদোৎসব শব্দ। আমরা তাকেও উপেক্ষা করতে পারি না।’ অর্থাৎ নতুন সরকারের নির্দেশ যে মানা হবে, তার কোনও আভাস নেই সিপিএম নেতার বক্তব্যে। কী ধরনের বই থাকবে সিপিএমের স্টলে? পার্থ বললেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ থেকে সুভাষচন্দ্র বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গে একাধিক বই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকরবী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক গল্প সংকলন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একাধিক বই, বিআর আম্বেদকরের সংকল, মেঘনাথ সাহার বই থাকবে। থাকবে ২০২৫-এর বিদ্যুৎ বিল অথবা শ্রম কোড, নারী স্বাধীনতা, মহিলাদের অধিকার প্রসঙ্গ ও আইনি সহায়তা বিষয়ক বই।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইউসিআই (সি)। তাদের পক্ষে জানানো হয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে আসানসোল মহকুমার চিত্তরঞ্জন থেকে আসানসোলের মধ্যে ন’টি জায়গায় ঘুরে ঘুরে বই বিক্রি করা হবে। ব্যাগে বই নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি যাবেন কর্মীরা। এমনটাই জানিয়েছেন এসইউসি জেলা কমিটির সদস্য অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়। এ ছাড়া আসানসোল মহকুমায় দুর্গাপুজো উপলক্ষে ১২টি আলাদা স্টল থাকবে। শিবদাস ঘোষ, প্রভাস ঘোষের বই থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামের বই থাকবে স্টলে। থাকবে শ্রমকোড বিল, স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত বই।
হিন্দুস্তান কেবলসের শ্রমিক সংগঠনের প্রাক্তন নেতা প্রবীর চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘দুর্গাপুজোর সময়ে সকালে কর্মী এবং সমর্থকরা থাকবেন নিজেদের স্টলে। সেই সময়েই একটি অংশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই বিক্রি করবেন। আমার ধারণা, বই ভালো বিক্রি হবে।’
