Published on
:
2 min read
এই সময়: সময়টা ছয়ের দশকের মাঝামাঝি। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে ছোট্ট একটা গ্রিক রেস্তোরাঁয় প্রথম দেখা হয়েছিল অভিজাত, সুদর্শন, সৌম্যকান্তি এক ভারতীয় তরুণের সঙ্গে লাজুক ও মিষ্টি এক ইতালীয় তরুণীর। ভারতীয় তরুণটির আকর্ষণীয় চেহারাই শুধু নয়, তাঁর নম্র আচরণও মুগ্ধ করেছিল সেই বিদেশিনীকে। ঘটনাচক্রে এই প্রথম সাক্ষাৎই যে মেয়েটির জীবনের মোড় নাটকীয় ভাবে ঘুরিয়ে দেবে, কে জানত? মেয়েটি নিজেও কি তখন ভাবতে পেরেছিলেন যে, তিনি বাকি জীবনটা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পুত্রবধূ, পরে প্রধানমন্ত্রীর ঘরণী ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে কাটাবেন? কিংবা, মধ্য চল্লিশেই নিভে যাবে তাঁর আজীবনের সঙ্গীর জীবন? রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম আলাপ ও প্রেমের স্মৃতিচারণ করেছেন সনিয়া গান্ধী তাঁর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ বইয়ে। বইটি প্রকাশিত হবে ১০ নভেম্বর।
এক্স-এ খাতা খুললেন সনিয়া। প্রথম পোস্টে সেই স্মৃতিকথারই এক ঝলক ভিডিয়ো সঙ্গে দিয়ে দিলেন সবার জন্য। সনিয়ার কথায়, ‘রাজীব আর আমি প্রেম, হাসি ও স্মৃতি দিয়ে আমাদের নিজস্ব একটা পৃথিবী গড়ে তুলেছিলাম। ১০ নভেম্বর আমাদের সেই পৃথিবীটুকু আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’ সোফায় বসে বইটি হাতে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন সনিয়া। বলছেন, ‘রাজীব অত্যন্ত সুদর্শন ছিল। সেই সময়ে ইংল্যান্ডে আজকের মতো এত রেস্তোরাঁ ছিল না। ইংল্যান্ডের খাবার একেবারেইই সুস্বাদু ছিল না। আমি তো ওই খাবার খেতেই পারতাম না। সুযোগ পেলেই ইটালিয়ান খাবার খুঁজতাম। সেই সময়েই এই গ্রিক রোস্তোরাঁর সন্ধান পাই। আমার মতো আরও অনেকেই যেত সেখানে, ভারতীয় ছাত্ররাও যেতেন।’ সনিয়া বলছেন, ‘রাজীবের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের এক কমন ফ্রেন্ড। রাজীবকে দেখেই কেন জানি না আমার মন বলেছিল, এর সঙ্গেই আমি আমার জীবনটা কাটাতে চাই। পরে রাজীবও স্বীকার করেছিল যে, আমাকে দেখে ওর-ও এমনটাই মনে হয়েছিল।’
কথায় কথায় বারবারই রাজীবের সৌন্দর্য ও ‘জেন্টলনেস’-এর কথা উল্লেখ করেছেন সনিয়া। তাঁর কথায়, ‘চেহারার আভিজাত্যকে ছাপিয়ে যেত রাজীবের নম্র আচরণ। আর এটাই আমায় বেশি টানত।’ বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কের শুরু, তারপরে প্রেম। দু’জনে মিলেই যেতেন পার্টিতে, আশপাশে ঘুরতেও। কেমব্রিজের ছাত্রজীবনের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন পরস্পরের সঙ্গে। অন্য বন্ধুদের সঙ্গে একবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র পার্টিতেও গিয়েছিলেন রাজীব-সনিয়া। বইটিতে অনেক ছবিও আছে— পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বলছিলেন সনিয়া। যে সম্পর্ক রাজনীতির আলো থেকে বহুদূরে জন্ম নিয়েছিল, পরে অবশ্য সেই রাজনীতির স্পটলাইটেই আটকে পড়েন তাঁরা— বিবাহিত দম্পতি হিসেবে, ভারতের ‘ফার্স্ট-ফ্যামিলি’ হিসেবে। রাজীবের সঙ্গে সনিয়ার বিয়ে হয় ১৯৬৮-তে। মা ইন্দিরা গান্ধীর অপমৃত্যুর পরে বিপুল ভোটে জিতে ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন রাজীব। ২১ মে, ১৯৯১ সালে এলটিটিই-র জঙ্গিদের আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ৪৬ বছরের রাজীবের। সনিয়া তখন মাত্র ৪৪!
বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামেও খাতা খুলেছেন সনিয়া। সেখানে তিনি নিজের প্রকাশিতব্য বই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই মুহূর্তটি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। এটি প্রেম, কর্তব্য, হারানোর বেদনা এবং নিজের একান্ত ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার এক কাহিনি।’ ইনস্টাগ্রামের ভিডিয়োয় সনিয়াকে বইটির প্রথম কপি হাতে নিতে এবং মেয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে মিষ্টিমুখ করার মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। মিষ্টিমুখের পরে মা ও মেয়ে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন। বইটি আন্তর্জাতিক ভাবে রিলিজ় করবে প্রকাশনা সংস্থা অ্যালফ্রেড এ নফ। ভারতে প্রকাশ করবে হার্পার কলিন্স। ৫৪৪ পাতার বইটিতে সনিয়ার শিশুকাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতালির কথা আছে। আর আছে কেমব্রিজে রাজীবের সঙ্গে তাঁর পরিচয়, প্রেম ও পরিণয়ের কাহিনি। পাতায় পাতায় ধরা আছে শাশুড়ি ইন্দিরা ও স্বামী রাজীবের রাজনৈতিক হত্যার পরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি ও সেই বিপর্যয়ের পথ ধরে ভারতের রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশের উপাখ্যান।
