সৌদি আরবে হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত শনিবার দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন কুমিল্লার মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর। তিনি পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। একই হামলায় নিহত শাহেদ আহমেদ আশিকের বাড়ি বগুড়া জেলায়। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
জানা গেছে, নিহত মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার রবিউল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার পিতা হাফেজ মো. উল্লাহ ইসলামিয়া আরাবিয়া ফয়জুল উলুম সিঙ্গরিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের গ্রামের
বাড়ি নাঙ্গলকোটের বদরপুরের পরিচিত ‘ওলামা বাড়ি’তে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার বড় সন্তানের বয়স সাত বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স দুই বছর।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের বাড়ি ও কর্মস্থলের সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
এদিকে, একই হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ আশিক। কথা ছিল ৫ বছর পর তিনি বাড়ি ফিরে আসবেন। ভবিষ্যৎ গড়বেন দুই সন্তানের। তার উপস্থিতিতে আলোকিত হবে পরিবার। জমিজমা বিক্রি আর ধারদেনা করে পরিবারের ভাগ্যে বদলানোর জন্য হাজার মাইল দূরে সুখস্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন শাহেদ আহমেদ আশিক। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে বসবাসরত তার স্ত্রী ও সন্তানের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে মাদলা গ্রামের আকাশ। চোখে পানি ধরে রাখতে পারছেন না কেউ। কেউ আহাজারি করছেন বুক চাপড়ে।
স্ত্রী কাকলী বেগম। দুই সন্তান ১১ বছরের কাউছার এবং ৬ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ। একদিকে, স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী দিশেহারা, অন্যদিকে বাবার মৃত্যুর সংবাদে দুই শিশুর জীবনে নেমে এসেছে বিশাল শূন্যতা।
এক মাসের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা শাহেদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর তার বাবা-মার কাছে পৌঁছান বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা। নিহত শাহেদ আহমেদের বাবা-মা ওমরাহ হজ পালন করতে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে চাকরি করছেন। তিন মাস আগে তার মা-ও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। নিহত শাহেদ আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্ত্রী কাকলী জানান, গত শনিবার সকাল ৯টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন শাহেদ। ৯ অক্টোবর বগুড়া শাজাহানপুর বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি নেন।
গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরও চার বাংলাদেশি। আহতরা রিয়াদের কিং খালিদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
