গরমে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় হঠাৎ করেই বিদ্যুতের লোডশেডিং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের বেলায় গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ার পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় হঠাৎ করেই বিদ্যুতের লোডশেডিং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের বেলায় গরম আর ভ্যাপসা আবহাওয়ার পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকটের এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে শিশু, রোগী ও বয়স্করা এই গরমে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) সূত্র জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের ওজোপাডিকোর কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত বাড়ছে।
গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় এই অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৪১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছিল ৭০৫ মেগাওয়াট, যেখানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩৬ মেগাওয়াট। একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা সামান্য কমে ৭২১ মেগাওয়াটে দাঁড়ালেও সরবরাহ নেমে আসে ৬৪২ মেগাওয়াটে; ফলে সে সময় লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কেবল খুলনা জোনেই ঘাটতি ছিল ৪৭ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৩২ মেগাওয়াট।
তবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে পরের দিন বুধবার (১৪ অক্টোবর)। এদিন দুপুরে অফ-পিক আওয়ারেও ২১ জেলায় লোডশেডিং এক লাফে ১০১ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। ওই সময় দুপুর ১টার পর চাহিদা ছিল ৬৬১ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ৫৬০ মেগাওয়াট। খুলনা জোনে ৫৯ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৪২ মেগাওয়াট ঘাটতি রেকর্ড করা হয়।
পরিস্থিতি আরও খারাপ রূপ নেয় বুধবার সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে। ওই সময় ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৯৪ মেগাওয়াটে, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় মাত্র ৫৭৮ মেগাওয়াট। ফলে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬ মেগাওয়াটে। এর মধ্যে খুলনা জোনে ঘাটতি ছিল ৮১ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৩৫ মেগাওয়াট।
বুধবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারের তথ্যানুযায়ী, ওজোপাডিকোর আওতাধীন ২১ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় অংকের লোডশেডিং কার্যকর করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। এর মধ্যে খুলনায় ২৯ মেগাওয়াট, মাগুরায় ৪, নড়াইলে ৩, ঝিনাইদহে ১১, চুয়াডাঙ্গায় ২, মেহেরপুরে ১, ফরিদপুরে ১২, রাজবাড়ীতে ১৩, মাদারীপুরে ৪, গোপালগঞ্জে ১, শরীয়তপুরে ১, বরিশালে ২২, পিরোজপুরে ২, ঝালকাঠিতে ২, পটুয়াখালীতে ৩, বরগুনায় ২ এবং ভোলায় ৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়। এর আগে দুপুরেও প্রায় প্রতিটি জেলায় সমপরিমাণ বা তার কাছাকাছি লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হয় গ্রাহকদের। যেমন—দুপুরের দিকে খুলনায় ১৭, মাগুরায় ৬, নড়াইলে ১, ঝিনাইদহে ৭, ভেড়ামারায় ১, কুষ্টিয়ায় ৭, রাজবাড়ীতে ১০, মাদারীপুরে ৫, গোপালগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ২, বরিশালে ২৫, পিরোজপুরে ৩, ঝালকাঠিতে ৩, পটুয়াখালীতে ৫, বরগুনায় ৩ এবং ভোলায় ৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছিল।
হঠাৎ করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নগরীর ছোট মির্জাপুরের বাসিন্দা শওক উজ জামান ক্ষোভের সাথে জানান, “বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার আমাদের এলাকায় লোডশেডিং অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আগে যেখানে এক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ থাকতো না, সেখানে বুধবার একটানা দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। সব মিলিয়ে আমাদের এলাকায় প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।”
বয়রা এলাকার বাসিন্দা সাবিনা ইয়ানমিন জানান, এমনিতেই রান্নার জন্য গ্যাসের দাম খুব বেশী, যার ফলে গ্যাসের সমস্যা মেটাতে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা বা অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিং সেই সংকটকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
একই ধরনের কষ্টের কথা জানান টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এমন অবনতি হয়েছে যে কোনো কাজই ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে জরুরি কাজের মাঝেই যখন বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন চরম বিরক্তি ও অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।”
