Published on
:
2 min read
ফ্রান্সে অশান্তির জেরে বিভিন্ন এলাকায় আংশিক কার্ফু জারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। তার পরেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই আবহে বুধবার প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য নির্দেশিকা জারি করল নয়াদিল্লি। প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিবৃতিতে বলেছে, ‘জমায়েত এড়িয়ে চলুন।’ এর মধ্যে যাঁরা ফ্রান্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদেরও এই নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
প্রবাসী ভারতীয়দের বিক্ষোভের জায়গা এবং ভিড় এড়িয়ে চলার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শও দিয়েছে দূতাবাস। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সজাগ ও সতর্ক থাকুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন। যে সব জায়গায় বিক্ষোভ চলছে, সেখানে যাবেন না।’ একই সঙ্গে বিপদ এড়াতে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। প্যারিসের দূতাবাসের জন্য +33 6 48 34 00 63 এবং মার্সেইয়ের জন্য +33 7 43 16 25 59 নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
সেপ্টেম্বরের শেষে আন্দোলন শুরু করেছিলেন প্যারিসের স্কুলছাত্ররা। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে স্কুল-কলেজে উন্নত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করুক সরকার। তার সঙ্গে জুড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার মানের অবনমনের মতো ইস্যুও। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় গোটা দেশে। তার পর থেকেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিতে শুরু করে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে কমিউনিস্ট এবং অভিবাসী মুসলিমরা। তারাই ছাত্র বিক্ষোভ ‘হাইজ্যাক’ করে হিংসা ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে একাধিক এলাকায় আংশিক কার্ফু জারি করেছে ফরাসি প্রশাসন। প্যারিস, মার্সেলি, লিয়ঁর মতো শহরে চলছে অবাধে লুটপাট। এর মধ্যেই ২৪ অক্টোবর নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় স্কুলগুলিতে তিন হাজারেরও বেশি অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সরকার। কয়েকশো অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আর হিংসা চালানো এক জিনিস নয়।’ একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি।
