ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসব যুদ্ধবিমান সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় কাজ করবে। গত এক মাসে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সৌদি আরবকে ইতোমধ্যে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা জোরদারে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ব্রিটিশ সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করবে। তবে ইয়েমেনের ভেতরে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান চালাবে না এসব যুদ্ধবিমান।
গত জুলাইয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সংঘাত তীব্র হতে থাকে। এর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানার হুথি-নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে সৌদি হামলার ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বারবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এর মধ্যে একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের হামলা মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের সামরিক সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। ফ্রান্স সামরিক সদস্যসহ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এ ছাড়া নতুন গঠিত যৌথ বাহিনী কমান্ডের অধীনে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিতে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
সৌদি আরবে পাকিস্তানের সেনাসদস্যও মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে, দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে মিসরের পার্লামেন্ট। এ লক্ষ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিশেষ করে রিয়াদের বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বোঝা যায়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে হুথিরা কতটা এগিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসে হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু কৌশলগত এলাকা দখল করে। এতে আরেকটি বাণিজ্যপথে ইরানের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি যুদ্ধবিমানের সহায়তায় হুথিবিরোধী ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হারানো এলাকা পুনর্দখলে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে।
তবে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে হুথিরা। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও অব্যাহত রেখেছে তারা।
সোমবার ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৫৩ জন নবনিযুক্ত সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন। এক বিবৃতিতে হামলাটিকে ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়াদের কাপুরুষোচিত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, নিহতরা নিজেদের সম্প্রদায় ও দেশকে নিরাপদ রাখতে স্বেচ্ছায় বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/
