ব্রিটেনের একটি আদালত সাবেক এক সেনা রাঁধুনিকে ‘সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যে’ অস্ত্র রাখার অপরাধে প্রায় চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে বুধবার মার্ক ব্রডহার্স্টকে এই সাজা দেয়া হয়। এর দুই বছর আগে পুলিশ অনলাইনে তার কিছু বার্তা খুঁজে পায়, যেখানে তিনি বর্ণবাদী মতামত প্রকাশ করেছিলেন এবং ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কাছে ঘরে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রডহার্স্টকে হেফাজতে নেয়ার সময় তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ছিল ছুরি ও ক্রসবো, কালো বারুদ, গোলাবারুদ, এয়ার পিস্তল এবং কর্মকর্তাদের ভাষায়, ‘ঘরে তৈরি একটি কামান’।
সাবেক এই ব্রিটিশ সেনাসদস্যকে আরও তিনজনের সঙ্গে একটি অনলাইন চ্যাট গ্রুপের সদস্য হিসেবেও পাওয়া যায়। ওই তিনজনকে গত বছর মসজিদ বা উপাসনালয়ে ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পরিকল্পনা করার অপরাধে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তারা বিশ্বাস করত, একটি ‘জাতিগত যুদ্ধ’ আসন্ন এবং সেই যুদ্ধের অংশ হিসেবেই হামলাটি চালানো হবে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি কৌঁসুলি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের (সিপিএস) বিশেষ অপরাধ বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক ফার্গুসন বলেন, ব্রডহার্স্টের ‘সহিংসতার প্রতি স্পষ্ট আগ্রহ ছিল এবং তিনি এমন অস্ত্র তৈরি করতে আগ্রহী ছিলেন, যেগুলো নিরীহ মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখত’।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশিং কার্যক্রমের প্রধান ডিটেকটিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জেমস ডানকারলি বলেন, ব্রডহার্স্টের মধ্যে ‘চরম ডানপন্থী মানসিকতা’ দেখা গেছে এবং তিনি ‘বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ সংগ্রহের জন্য সক্রিয়ভাবে অর্ডার দিচ্ছিলেন’।
ব্রডহার্স্ট আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ স্বীকার করেন। তবে তিনি অস্বীকার করেন যে, এসবের উদ্দেশ্য ছিল ‘সন্ত্রাসবাদ’। তবে একজন বিচারক রায় দেন, ব্রডহার্স্টের অপরাধগুলো ‘সন্ত্রাসবাদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।
