কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
তিনি জানান, উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর শনিবার রাতে এ মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় রিসোর্টের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুমনকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন নিশ্চিত করেন, শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে।
লাশের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, লাশ শনাক্ত এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। এর আগে লাশগুলো কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে।
নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয় বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা। আশিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রিসোর্টে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে অগ্নিকাণ্ডে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়।
বিআলো/শিলি