মাগুরায় আট দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি অভিযানে ৩২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ অভিযানে চার হাজার পিস ইয়াবা, নগদ ছয় লাখ টাকা, একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল, একটি ওয়াকিটকি ও একটি স্টিলের লকার উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন নামে এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
(১৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মাগুরা সদর উপজেলার কুকনা এলাকায় এশিয়া মহিলা কলেজের পুরোনো হোস্টেলের পেছনে একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সম্পা দাস (৩২) ও পূর্ণিমা রানী বিশ্বাস (৫৫) নামে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি দীপ্ত কুমার বিশ্বাসের ভাড়া নেওয়া বাসা।
মাগুরা জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেন ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, অভিযান চলাকালে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস পালিয়ে যান। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁর ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুই নারীর দেখানো মতে, একটি স্টিলের লকার থেকে ২০টি নীল জিপার পলিতে রাখা চার হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ছয় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সম্পা দাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির সামনে থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, নম্বরপ্লেটবিহীন একটি অ্যাপাচি মোটরসাইকেল এবং কালো রঙের একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকারটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৮৯৯৪।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই নারী দীপ্ত কুমার বিশ্বাসসহ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁদের এই বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিস্তারিত তথ্যও এখনো জানা যায়নি।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর রাতে মাগুরা শহরের কলেজপাড়ার স্বপ্নবিলাস ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাবের এসআরবি-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প। র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা, চার বোতল ফেনসিডিল, নগদ ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা, বিকাশ হিসাবে থাকা তিন লাখ টাকা, টাকা গণনার মেশিন, চারটি ল্যাপটপ, দুটি ওয়াকিটকি, মুঠোফোন এবং ‘প্রেস’ ও ‘ক্রাইম তালাশ’ লেখা মাইক্রোফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় রাশেদ শেখ (৪১) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমনের নামও উল্লেখ করা হয়।
দুটি অভিযানে মোট ৩২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলোর মালিকানা এবং মাদক পরিবহনে সেগুলো ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, স্বপ্নবিলাস ভবনে মাদক উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন মাগুরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ। এ ঘটনায় তিনি গত ১২ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ৮৩৮ এবং ট্র্যাকিং নম্বর পিডব্লিউকিউ০৮০।
সাংবাদিক মিরাজ আহমেদের অভিযোগ, মাদক উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে তিনি থানায় জিডি করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি।
পরপর দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকের করা জিডির বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এমএ
