কেউ প্রয়োজনে লেন্স পরেন, কেউ আবার নিছকই শখে। সাধারণ লেন্সের পাশাপাশি রঙিন লেন্সের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। চোখ ভাল রাখতে শরীর মূলত দু’টি কাজ করে। চোখে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের জোগান দিতে থাকে। আর চোখে কোনও ময়লা জমলে কিংবা ব্যাক্টেরিয়া বাসা বাঁধলে চোখ নিজেই জলের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। সামনেই পুজো। যাঁরা রঙিন কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারের কথা ভাবছেন, তাঁদের কিন্তু ব্যবহারের আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। দিনে আট থেকে বারো ঘণ্টার বেশি লেন্স পরে থাকলে চোখে কোনও পরজীবী বাসা বাঁধতে পারে। সেই সব পরজীবী থেকেই কর্নিয়াল আলসারের আশঙ্কা তৈরি হয়।
লেন্স পরে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে চোখে সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতা আরও ১০ গুণ বেড়ে যায়। চোখ লাল হওয়া, চোখে তীব্র যন্ত্রণা, অস্বস্তি, অনবরত চোখ থেকে জল বেরোনো, সারাক্ষণ চুলকুনি ভাব লেগেই থাকে— এই সব উপসর্গই চোখে সংক্রমণ হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এই সব বিষয়ে সজাগ না হলে লেন্সের কারণে সংক্রমণ থেকে অন্ধত্বেরও ঝুঁকি তৈরি হয়।
নিয়মিত লেন্স পরলে কী ভাবে সংক্রমণ এড়িয়ে চলবেন?
১) পুজোয় দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে সময় কাটাবেন ভাবছেন? এ ক্ষেত্রে লেন্স ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটানা কতক্ষণ লেন্স পরবেন, সে বিষয়ে ঠিক ভাবে জেনে নিন।
২) লেন্সের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। কনট্যাক্ট লেন্স সবসময়ে স্টেরাইল সলিউশনে ভিজিয়ে সঠিক লেন্স কেসে রাখবেন। লেন্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ভীষণ জরুরি, না হলেই বাড়বে সংক্রমণের ঝুঁকি। লেন্স পরার আগে ও পরে হাত ভাল করে সাবান দিয়ে ধুতে ভুলবেন না। তোয়ালে দিয়ে হাত মুছবেন না। বরং কোনও মসলিন কাপড়ে বা সুতির রুমালে হাত মুছে, তবেই লেন্সে হাত দেবেন।
৩) চোখে কোনও রকম অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে লেন্স খুলে ফেলুন। এ রকমটা বার বার হতে থাকলে কয়েক দিন লেন্স না পরাই ভাল।
৪) বাজারে বিভিন্ন দামের লেন্স পাওয়া যায়। কিছু লেন্সের মেয়াদ মাত্র এক দিনই থাকে। সেইগুলি এক বারের পর আর দ্বিতীয় বার ভুলেও ব্যবহার করবেন না। লেন্স ব্যবহারের সময়ে সস্তার রঙিন লেন্স ব্যবহার না করাই ভাল। দামি লেন্সের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। মেয়াদ পেরিয়ে গেলে সেই লেন্স যত দামিই হোক না কেন, ভুলেও ব্যবহার করবেন না।
৫) মেকআপের একেবারে শেষ পর্যায়ে লেন্স পরুন। লেন্স পরে মেকআপ করলে অনেক সময়ে তাতে কাজল, মাস্কারা, আইশ্যাডো লেগে যেতে পারে। এমন ঘটলে চোখে প্রাথমিক জ্বালা ভাব তো হবেই, এমনকি, সংক্রমণও হতে পারে।
